তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা এবার দিল্লির সাংসদ মহলেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে জোর রাজনৈতিক জল্পনা। ৪১ তৃণমূল সাংসদের মধ্যে বিদ্রোহী ৩৩ জন— এমন দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, লোকসভা ও রাজ্যসভার একাধিক সাংসদ দল না ছেড়েই দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পথে হাঁটছেন।
রাজনৈতিক সূত্রে দাবি, বিদ্রোহী সাংসদদের বড় অংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথেই এগোতে চাইছেন। অর্থাৎ তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না, আবার দলত্যাগও করছেন না। বরং তৃণমূলের ভিতরেই থেকে সংগঠনের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কৌশল গ্রহণ করছেন।


লোকসভায় তৃণমূলের মোট সাংসদ সংখ্যা ২৮। সূত্রের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায় এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিলে বাকি ২৪ জন সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
একই ধরনের পরিস্থিতির ইঙ্গিত মিলছে রাজ্যসভাতেও। তৃণমূলের ১৩ জন রাজ্যসভার সাংসদের মধ্যে ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, মেনকা গুরুস্বামী এবং সাগরিকা ঘোষকে বাদ দিলে বাকি ৯ জনের নামও বিদ্রোহী তালিকায় রয়েছে বলে দাবি রাজনৈতিক সূত্রের।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার দিল্লিতে বিজেপি-বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল দু’জনেই রবিবার দিল্লি যাবেন।


তবে শেষ মুহূর্তে সূচিতে পরিবর্তন আসে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগে শনিবারই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের অন্দরমহলের একাংশের দাবি, দলের সাংসদদের মধ্যে তৈরি হওয়া অস্বস্তি এবং সম্ভাব্য ভাঙন সামলানোর কৌশল নিয়েই তাঁর এই আগাম দিল্লি সফর।
পরিষদীয় দলে ভাঙনের জল্পনার পর সংসদীয় দল নিয়েও যখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্ক কোন দিকে গড়ায় এবং সাংসদদের এই অসন্তোষ শেষ পর্যন্ত কতটা সাংগঠনিক প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের। আপাতত তৃণমূলের সংসদীয় রাজনীতিতে তৈরি হওয়া এই নতুন সমীকরণই জোর চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



