রাসায়নিক দেওয়া আম চিনবেন কীভাবে? বাজারে যাওয়ার আগে জেনে নিন এই ৭ সহজ উপায়

বাজারে বিক্রি হওয়া সব আম কি নিরাপদ? রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম চেনার সহজ কয়েকটি উপায় জেনে নিন, যাতে সুস্বাদের সঙ্গে স্বাস্থ্যও থাকে সুরক্ষিত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

গরম মানেই আমের মৌসুম। হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি কিংবা আম্রপালি— বাজার এখন রঙিন নানা জাতের আমে। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেই রয়েছে এক বড় উদ্বেগ। বাজারে বিক্রি হওয়া অনেক আম দ্রুত পাকানোর জন্য ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ। ফলে ফলের স্বাদ যেমন নষ্ট হয়, তেমনই শরীরের উপরও পড়তে পারে নেতিবাচক প্রভাব। তাই আম কেনার আগে রাসায়নিক দেওয়া আম চেনার উপায় জানা অত্যন্ত জরুরি।

কেন রাসায়নিক দিয়ে আম পাকানো হয়?

চাহিদা বেশি থাকায় অনেক ব্যবসায়ী দ্রুত বাজারজাত করার জন্য ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা অন্যান্য রাসায়নিক ব্যবহার করে আম পাকান। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই আমের রং পরিবর্তন হয়ে যায় এবং দেখতে আকর্ষণীয় লাগে। তবে এই ধরনের আম স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

১. অস্বাভাবিক উজ্জ্বল হলুদ রং দেখলে সতর্ক হন

প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমের গায়ে সাধারণত সবুজ, হলুদ ও কমলা রঙের মিশ্রণ দেখা যায়। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে প্রায় পুরো ফলটাই একরকম উজ্জ্বল হলুদ হয়ে থাকে। রং খুব বেশি সমান হলে সন্দেহ করা উচিত।

২. বাইরে পাকা, ভিতরে কাঁচা

রাসায়নিক দেওয়া আমের অন্যতম লক্ষণ হল বাইরে থেকে সম্পূর্ণ পাকা দেখালেও ভিতরে কাঁচা বা শক্ত অংশ থাকা। আম কাটার পর যদি শাঁস অসমভাবে পাকা দেখা যায়, তাহলে সেটি কৃত্রিমভাবে পাকানো হতে পারে।

৩. প্রাকৃতিক মিষ্টি গন্ধ না থাকলে সাবধান

গাছে পাকা আমের একটি স্বাভাবিক সুগন্ধ থাকে। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে সেই সুবাস অনেক সময় অনুপস্থিত থাকে। অনেক ক্ষেত্রে গন্ধ প্রায় থাকেই না।

৪. খোসায় কালো বা বাদামি দাগ

ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহারের ফলে খোসায় অস্বাভাবিক কালো বা বাদামি দাগ দেখা যেতে পারে। যদিও সব ক্ষেত্রে এমন হয় না, তবুও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

৫. একই সঙ্গে সব আম পেকে গেলে

এক ঝুড়িতে থাকা সব আম যদি একই রকম রঙের এবং সমানভাবে পাকা দেখায়, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত। প্রাকৃতিকভাবে সব ফল একসঙ্গে সমানভাবে পাকে না।

৬. খাওয়ার পর অস্বস্তি

রাসায়নিক দেওয়া আম খাওয়ার পর কারও কারও গলা জ্বালা, পেট ব্যথা, বমিভাব বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শরীরের প্রতিক্রিয়ার দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।

৭. কেনার পর জলে ভিজিয়ে রাখুন

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আম কেনার পর অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পরিষ্কার জলে ভিজিয়ে রাখুন। এতে ফলের গায়ে থাকা কিছু রাসায়নিক ও ময়লা দূর হতে পারে।

নিরাপদে আম খাওয়ার জন্য কী করবেন?

বিশ্বস্ত দোকান বা পরিচিত চাষির কাছ থেকে আম কেনার চেষ্টা করুন। খুব বেশি চকচকে বা অস্বাভাবিক রঙের আম এড়িয়ে চলুন। আম কেনার সময় গন্ধ, রং এবং ফলের স্বাভাবিক গঠন ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।

আম গ্রীষ্মের অন্যতম প্রিয় ফল। তবে সুস্বাদের সঙ্গে স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই কয়েকটি সহজ লক্ষণ মাথায় রাখলেই রাসায়নিক দেওয়া আম চেনা অনেকটাই সহজ হবে এবং পরিবারের জন্য নিরাপদ ফল বেছে নিতে পারবেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর