কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের গ্রেফতারি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। তোলাবাজির অভিযোগে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের এই জনপ্রতিনিধিকে গ্রেফতার করেছে পাটুলি থানার পুলিশ। এই নিয়ে তথাকথিত ‘ছোট লালবাড়ি’ মামলায় গ্রেফতার হওয়া তৃণমূলের জনপ্রতিনিধির সংখ্যা দাঁড়াল সাতে, যা শাসক শিবিরের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল।
বুধবার সকালে বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই থানার সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযোগের প্রতিবাদে নয়, বরং ক্ষোভ উগরে দিয়ে অনেককে ‘চোর-চোর’ স্লোগান তুলতেও দেখা যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজির একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছিল। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এদিন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুটা বিজেপির হাত ধরেই করেছিলেন বাপ্পাদিত্য। পরে ২০১০ সালে তৎকালীন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে তিনি শাসক দলে যোগ দেন। এরপর ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে উঠে আসেন।
২০১৫ সালের পুরসভা নির্বাচনে ১১০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তীতে ২০২১ সালের পুরভোটেও জয় পেয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করেন। শুধু কাউন্সিলরই নন, তৃণমূল কাউন্সিলরদের মুখ্য সচেতক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন বাপ্পাদিত্য।
সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা পুরসভার একাধিক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাপ্পাদিত্যর গ্রেফতারি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এই গ্রেফতারি ঘিরে কলকাতার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং অভিযোগের পক্ষে কতটা প্রমাণ উঠে আসে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।



