রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বিরোধী শিবিরেও। সেই আবহেই বীরভূমের পাঁচ তৃণমূল বিধায়কের নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য প্রশাসন। রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা, কারণ নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাওয়া সকলেই সম্প্রতি ‘ভালো তৃণমূল’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। দলের একাংশ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়ে আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ভালো তৃণমূল’-কে সমর্থন করেছেন একাধিক বিধায়ক।
সূত্রের দাবি, ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন জানিয়েছেন। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবেও তাঁকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই সমর্থকদের তালিকাতেই রয়েছেন বীরভূমের পাঁচ বিধায়ক।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পাঁচ বিধায়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত দু’জন করে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী যুক্ত করা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়নের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
যাঁদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও হাঁসন কেন্দ্রের বিধায়ক কাজল শেখ, নলহাটির বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং, মুরারইয়ের বিধায়ক মোশারফ হোসেন, প্রাক্তন মন্ত্রী ও বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা এবং নানুরের বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাঝি।
উল্লেখ্য, সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্যের একাধিক বিরোধী নেতার নিরাপত্তা প্রত্যাহার বা পুনর্বিন্যাসের ঘটনা সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে বীরভূমের এই পাঁচ বিধায়কের নিরাপত্তা বৃদ্ধি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষকদের একাংশ। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নেপথ্যে শুধুই নিরাপত্তাজনিত মূল্যায়ন, নাকি এর সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণেরও যোগ রয়েছে— তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।



