তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক নাটক যেন থামার নামই নিচ্ছে না। ৫৮ জন বিধায়ককে নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন শক্তি প্রদর্শনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সামনে এল নতুন দাবি। দলের একাংশের বিধায়ক নাকি এখন ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফিরে যেতে আগ্রহী। এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন।
বুধবার বিধানসভায় শক্তি প্রদর্শন করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। দাবি করা হয়েছিল, তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন ৫৮ জন বিধায়ক এবং আরও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি। কিন্তু সেই প্রদর্শনের পরেই নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে।
মোশারফ হোসেনের দাবি, গতকালের বৈঠকে উপস্থিত থেকে সই করা একাধিক বিধায়ক এখন কালীঘাট-ঘনিষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাঁদের অনেকেই নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ফিরে আসতে চান এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবছেন।
তাঁর বক্তব্য, সমস্যা মূলত নেতৃত্ব নিয়ে। একাংশ বিধায়কের আপত্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁদের আস্থা এখনও অটুট। সেই কারণেই তাঁরা ‘দিদির নেতৃত্বে’ রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যেতে চান বলে দাবি করেছেন মোশারফ।
ঋতব্রত শিবিরও এর আগে স্পষ্ট করেছিল যে তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে সম্মান জানাতে প্রস্তুত। তবে একইসঙ্গে তারা জানিয়েছিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে এবং ভবিষ্যতের সংগঠন পরিচালনায় তাঁকে তারা দেখতে চায় না।
এই অবস্থায় মোশারফের বক্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তাঁর দাবি, বহু বিধায়ক এখন মনে করছেন তাঁরা ভুল পথে এগিয়েছেন এবং দলনেত্রীর কাছে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন।
একই ধরনের দাবি করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষও। তাঁর বক্তব্য, কয়েকজন বিধায়ক ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে জানিয়েছেন যে নানা কারণে তাঁরা ঋতব্রতদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে তাঁদের মধ্যে অনেকেই এখন অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছেন।
কুণালের দাবি, কিছু বিধায়ক জানিয়েছেন যে রাজনৈতিক এবং আইনি চাপের কারণেও তাঁরা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাঁদের একাংশ এখনও পুরনো নেতৃত্বের প্রতিই আস্থা রাখছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ঋতব্রত শিবির অবশ্য এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে। এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহার বক্তব্য, এটি শুধুই বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা। তাঁর মতে, রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিতে না পেরেই বিরোধী শিবির এই ধরনের প্রচার করছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের প্রশ্নে যে মতপার্থক্য রয়েছে, তা ক্রমশ প্রকাশ্যে চলে আসছে। আগামী কয়েক দিনে বিধায়কদের অবস্থান বদল হলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে আরও বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
বর্তমানে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে প্রতিদিনই নতুন দাবি, পাল্টা দাবি এবং রাজনৈতিক অবস্থান বদলের খবর সামনে আসছে। ফলে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সংগঠনের কাঠামো নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।



