প্রতি বছর দুর্গা পুজোর সময় রাজ্যের দুর্গাপুজো কমিটি গুলোকে রাজ্য সরকারের তরফে অনুদান দেওয়া হয়। এই বছরও তার অন্যথা হয়নি। এবছর রাজ্য পূজো কমিটি গুলোকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ৮৫ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছে। যদিও আরজিকর কাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্যের অনেক পুজো কমিটি এবছর তাদের অনুদান নিতে অস্বীকার করেছে।আর এবার এই অনুদান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন ভাতারের বিধায়ক মনোগোবিন্দ অধিকারী।
তিনি নিদান দিয়েছেন দূর্গা পূজার অনুদান নিলে পুজো মন্ডপে টাঙাতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা মুখ্যমন্ত্রীর ছবি। যদি পুজো কমিটির মুখ্যমন্ত্রীর ছবি টাঙানোতে আপত্তি থাকে তাহলে তারা পুজোর অনুদান নেবেন না। গতকাল পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানায় পুজো কমিটি গুলোকে পূজোর অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় জেলা পুলিশের। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। সেখানে দাঁড়িয়েই ভাতারের তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যে টাকা দিচ্ছেন তার জন্য তাঁর ছবি যেন প্রতিটি প্যান্ডেলে টাঙানো থাকে। এই টাকা কিন্তু মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে নিচ্ছেন আপনারা। এটা সরকারের টাকা। আর মুখ্যমন্ত্রী সরকারের লোক। কিন্তু আপনারা টাকা নিচ্ছেন অথচ মুখ্যমন্ত্রীর ছবি টাঙাচ্ছেন না। খুব বাজে জিনিস। মুখ্যমন্ত্রীর ছবি টাঙাতে কারো যদি আপত্তি থাকে তাহলে আপনারা টাকাটা নেবেন না। এটা আমার আপনাদের কাছে অনুরোধ। অনেক ক্লাবই তো টাকা নিচ্ছেন না তাহলে আপনারাও নেবেন না “।


তৃণমূল বিধায়ক এর এহেন উক্তির পর রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা মন্তব্য করতে চাননি। তবে এই বিষয় নিয়ে জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন, “কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবার জন্য বা সবার জন্যই বিদায় হোক এ কথা বলেছেন। তিনি এটা বলতেই পারেন। কারণ তিনি রাজ্য সরকারের একজন বিধায়ক “। তবে তৃণমূল বিধায়ক এর এই মন্তব্যের কটাক্ষ করেছেন বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য্য।
তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “রাজ্যে বাঙালীদের কাছে দুর্গাপুজো অন্য মাহাত্ম্য রাখে। বাংলার সঙ্গে দুর্গা পুজোর সম্পর্ক বহুদিনের। আজ সেখানেই দখলদারি চাপিয়ে দিল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী যদি অনুদান নাও দিতেন তাহলেও মা দুর্গার আগমন হতো। তবে আজ যেভাবে সরকার এই উৎসব নিয়ে যে একাধিপত্ত্ব ফলাছেন তা নজিরবিহীন “।







