সত্যজিৎ হত্যায় চার্জশিট সোমবার। নাম থাকছে জগন্নাথের, নিষ্কৃতি মুকুল কে, কেন? #Exclusive

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ সত্যজিৎ হত্যায় চার্জশিট সোমবার। তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস হত্যা কাণ্ডে চার্যশিট দিতে চলেছে সিআইডি। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠান চলাকালীন পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয় তৃণমূল বিধায়ক কে। কয়েক জন দুষ্কৃতী খুব কাছ থেকে গুলি করে তাঁকে। প্রায় সাথে সাথেই মৃত্যু হয় নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়কের। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে ঘটনাস্থলে থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ এবার করোনা আক্রান্ত হলেন খোদ কলকাতা পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা।

একদিকে যখন বিধায়ক হত্যার কিনারা করতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ তখন অন্যদিকে শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতর। যুযুধান দুই পক্ষ একে অপরের দিকে আঙুল তোলে। নদিয়ায় তৃণমূলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অনুব্রত মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, ‘‘এই খুনের পিছনে বিজেপির ষড়যন্ত্র রয়েছে। তারাই এই খুন করিয়েছে।’’  অন্যদিকে,  রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু অভিযোগ করেন, ‘‘যে দিন থেকে অনুব্রত মণ্ডল নদিয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন সে দিন থেকেই খুনোখুনির খেলা চলছে।’’ নদিয়ার তৃণমূল জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত জানান, “আমি, সত্যজিৎ এবং মন্ত্রী রত্না ঘোষ ফুলবাড়ি এলাকার একটি সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানেই মঞ্চ থেকে নামার পর সত্যজিৎ কে গুলি করা হয়।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘এই ঘটনার পিছনে মুকুল রায়ের হাত আছে। যেই খুন করে থাকুক তার ওপর মুকুল রায়ের আশীর্বাদ রয়েছে।’’  সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র প্রশ্ন তোলেন, “তৃণমূল শাসনে একজন বিধায়কেরই যদি এই হাল হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”

সূত্র মারফত জানা যায় নিহত বিধায়ক বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে রাজনৈতির মহলে জল্পনা ছিল। মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে বিজেপি সম্প্রতি ভাল সংগঠন তৈরি করেছে। সেখানে সত্যজিৎ বিজেপি তে যোগ দিলে শক্তি বাড়ত কয়েকগুণ। তৃণমূল অভিযোগ করে সত্যজিৎ মুকুল রায়ের সাথে যোগাযোগ রাখলেও কখনই বিজেপি তে যোগ দিতে রাজি হননি বলেই তাঁকে হত্যা করা হল!

এদিকে ততক্ষনে সত্যজিৎ হত্যা কান্ডে সুজিত মন্ডল এবং কার্তিক মণ্ডল নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কর্তব্যে গাফিলতির দায়ে সাসপেন্ড করা হয় হাঁসখালি থানার ওসি অনিন্দ্য বসু এবং সত্যজিৎ বিশ্বাসের ব্যাক্তিগত দেহরক্ষীকে। মুকুল রায় এবং আরও চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে শুরু হয় তদন্ত। তদন্তের ভার তুলে দেওয়া হয় সিআইডির হাতে। সুজিত মন্ডল এবং কার্তিক মণ্ডল কে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ঘটনার মূল চক্রির নাম জানতে পারে। নাম সামনে আসে বগুলা কলেজের সেই প্রাক্তন টিএমসিপি নেতা অভিজিৎ পুণ্ডারীর। ততক্ষনে অভিজিৎ গা ঢাকা দিয়েছে। পরে গ্রেফতার করা হয় অভিজিৎ কে।

সূত্রে খবর সিআইডি জেরার মুখে ভেঙে পড়ে অভিজিৎ। অভিজিৎ কে জেরা করে সিআইডি জানতে পারে বিজেপি নেতা তথা সাংসদ জগন্নাথ সরকারের কথা। সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের মামলায় গত ১২ই মার্চ ভবানী ভবনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মুকুল রায় কে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। ঘটনার তদন্তে নেমে সিআইডি পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। মুকুল এবং জগন্নাথ গ্রেফতার না হলেও তাঁদের নাম ছিল অভিযোগপত্রে। প্রমানের অভাবে ১৯ সালের ১৪ জুন কার্তিক মণ্ডল ওরফে মিঠুন ও কালীপদ মণ্ডল ওরফে কালিদাসকে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে মুকুল রায় এবং জগন্নাথ সরকারও নিষ্কৃতি পান। এদিকে তদন্ত চালিয়ে যায় সিআইডি।

সত্যজিৎ হত্যায় চার্জশিট সোমবার। সূত্রের খবর সেই তদন্ত এখন শেষ হয়েছে। সোমবার চার্জশিট দেবে সিআইডি। কিন্তু সূত্র যে খবর জানিয়েছে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চার্জশিটে নাম রয়েছে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের কিন্তু নেই মুকুল রায়ের নাম। সূত্র জানিয়েছে অভিজিৎ পুণ্ডারি কে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে অনেককিছুই। এমনকি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে মোট ১১ বার পুণ্ডারির সাথে কথা হয় জগন্নাথের। সিআইডি উদ্ধার করেছে একাধিক এসএমএস বার্তাও। জানা যাচ্ছে জগন্নাথের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে সেই একই অভিযোগ রয়েছে মুকুলের বিরুদ্ধেও। প্রশ্ন উঠছে তাহলে মুকুল কে ছাড় দেওয়া হল কেন?

সূত্রের খবর কে পাথেয় করেই এই বিষয়ে নজরবন্দির তরফে প্রশ্ন করা হয় সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী কে। সেটিং এর অভিযোগ এনে সুজন বলেন, “আসলে গোপনে মুকুলের সাথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগাযোগ রয়েছে। দিদিমনিও চাইছেন যাতে মুকুল কে ঠাণ্ডা রাখা যায়। আর মুকুলও চাইছে যেন দুদিকেই(বিজেপি এবং তৃণমূল) তাল রেখে চলা যায়।” এখন দেখার সূত্রের খবর অনুযায়ী সোমবার চার্জশিট পেশ হয় কিনা। সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর