চোপড়াকাণ্ডে TMC বিধায়কের বিতর্কিত মন্তব্য, বাংলা ‘মুসলিম রাষ্ট্র’ আর নিগৃহীতা ‘শয়তান জানোয়ার’!

তরুণী আসলে একজন গৃহবধূ। তিনি এক যুবকের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছেন এই অভিযোগে দু'জনকেই রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা তাজমুল ওরফে জেসিবি!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

চোপড়ায় যুগলকে রাস্তায় ফেলে মারধরের ঘটনায় উত্তাল গোটা রাজ্য। শুধু রাজ্যই বা কেন, দেশের নানান প্রান্তে এই ঘটনায় নিন্দার ঝড় বইছে। অনেকেই বলছেন, এটা কি মধ্যযুগীয় বর্বরতা? নাকি ভারতবর্ষে তালিবানি শাসন চলছে? এরই মধ্যে চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুল রহমানের একটি মন্তব্যে শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যে।

হামিদুল রহমান বলেছেন, “মহিলা অন্যায় করেছেন। নিজের স্বামী, ছেলে ও মেয়েকে ছেড়ে তিনি শয়তান জানোয়ারে পরিণত হয়েছেন। আমাদের মুসলিম রাষ্ট্রে বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে!” সঙ্গে তিনি এই ঘটনায় নিন্দাও জানিয়েছেন। হামিদুলের এহেন মন্তব্যে শুরু হয় বিতর্ক। এরপরই হামিদুল আবার বলেন, “আমি মুসলিম রাষ্ট্র এই শব্দ ব্যবহারই করিনি। বিরোধীরা অপপ্রচার করছেন।”

চোপড়াকাণ্ডে TMC বিধায়কের বিতর্কিত মন্তব্য, বাংলা 'মুসলিম রাষ্ট্র' আর নিগৃহীতা 'শয়তান জানোয়ার'!

রবিবার দুপুর নাগাদ একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে (যদিও সেই ভিডিও-এর সত্যতা যাচাই করেনি নজরবন্দি) দেখা যায়, এক যুগলকে রাস্তায় ফেলে এক ছড়া কঞ্চি দিয়ে বেধড়ক মারধর করছেন এক ব্যক্তি। এরপর জানা যায়, সেই ব্যক্তি তৃণমূল নেতা। তাঁর নাম তাজমুল ওরফে জেসিবি! এরপরই তাঁকে ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ এবং অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। জেসিবিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ইসলামপুর থানায়।

জানা গিয়েছে, চোপড়ার এক যুবকের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন এক তরুণী। আর সেই অপরাধে যুগলকে রাস্তায় ফেলে ব্যাপক মারধর করেন তৃণমূল নেতা তাজমুল ওরফে জেসিবি। এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় সমাজমাধ্যমে। অবশ্য কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সেই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দায়ের হয়েছে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা।

চোপড়াকাণ্ডে TMC বিধায়কের বিতর্কিত মন্তব্য, বাংলা ‘মুসলিম রাষ্ট্র’ আর নিগৃহীতা ‘শয়তান জানোয়ার’!

চোপড়াকাণ্ডে TMC বিধায়কের বিতর্কিত মন্তব্য, বাংলা 'মুসলিম রাষ্ট্র' আর নিগৃহীতা 'শয়তান জানোয়ার'!

তাজমুলের বিরুদ্ধে খুন সহ অন্তত এক ডজনের বেশি অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তিনি ‘বিধায়ক-ঘনিষ্ঠ’ এবং এলাকার ‘বাহুবলি’ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তাঁকে কখনও গ্রেফতার করা হয়নি। এলাকাসবাসীদের কথায়, তাজমুল ওরফে জেসিবি নাকি এত দ্রুত যে কোনও বিচার দিতে পারেন যে কার্যত তাঁর জুড়ি মেলা ভার। গ্রামের বিভিন্ন অন্যায়-অবিচারের ঘটনায় সবার আগে ডাক পড়ে তাঁর। তিনি এসে যাওয়া মানে সকলেই নিশ্চিন্ত। তবে, হ্যাঁ, জেসিবি বিচার করেন তাঁর নিজস্ব কায়দায়। সেখানে ভারতীয় সংবিধানের আইন মানা হবে এমন কোনও গ্যারান্টি নেই। সেই কারণেই তো তাঁর নাম জেসিবি, অর্থাৎ, নিমেষে কাজ খতম!

ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, মারের চোটে তরুণ-তরুণী চিৎকার করছেন। কিন্তু, তাঁদেরকে লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দিঘলগাঁও এলাকার বাসিন্দারা ঘিরে থাকলেও তাঁরা নীরব দর্শকের ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের পক্ষে দাবি, এটাই নাকি ছিল সালিশি সভা! কারণ, ওই তরুণী আসলে একজন গৃহবধূ। তিনি অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছেন। দু’জনকে আর্থিক জরিমানা করার পরিকল্পনাও ছিল গ্রামবাসীদের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত