রাজ্যে সরকার বদলের পর একের পর এক পুরনো অভিযোগে আইনি জালে জড়াচ্ছেন তৃণমূলের নেতারা। উত্তর ২৪ পরগনায় তোলাবাজি, ভোট পরবর্তী হিংসা, মারধর, এমনকি পুলিশ পরিচয়ে দাদাগিরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন একাধিক তৃণমূল নেতা। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলায়।
দত্তপুকুর ও গোবরডাঙা এলাকায় বুধবার পুলিশের টানা অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কাশেমপুর পঞ্চায়েতের প্রধান মেঘনাথ দাস, উপপ্রধানের স্বামী গোপাল কাঞ্জিলাল, তাঁর ছেলে সম্বিত কাঞ্জিলাল-সহ আরও কয়েকজনকে।


পুলিশ সূত্রে খবর, গোপাল কাঞ্জিলালের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, তিনি নিজেকে পুলিশকর্মী পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব খাটাতেন। পাশাপাশি ভোট পরবর্তী সময়ে বিরোধীদের উপর হামলা, বাড়ি ভাঙচুর ও জোর করে টাকা তোলার মতো একাধিক ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়েছে।
একই ঘটনায় কাশেমপুর পঞ্চায়েতের প্রধান মেঘনাথ দাস ও সম্বিত কাঞ্জিলালকেও গ্রেপ্তার করেছে দত্তপুকুর থানার পুলিশ। প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ।
অন্যদিকে, দত্তপুকুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মান্তু সাহাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর এলাকায় বিরোধী দলের কর্মীদের মারধর, শ্লীলতাহানি ও পার্টি অফিস ভাঙচুরে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।


রাজ্য পালাবদলের পর পুরনো মামলাগুলিতে নতুন করে তদন্ত শুরু হতেই বুধবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
এদিকে, গোবরডাঙা থানার বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কর্মাধ্যক্ষ অজিত সাহা এবং তাঁর ভাই সুজিত কুমার সাহা। পুলিশ সূত্রে দাবি, সুজিতের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা নগদ।
এছাড়াও কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিও উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। যদিও ধৃতদের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনায় এই ধারাবাহিক গ্রেপ্তারি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আবহে পুরনো অভিযোগগুলিই এখন বড় আইনি অস্ত্র হয়ে উঠছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



