কর্নাটকের রাজনীতিতে ফের জোর জল্পনা। মুখ্যমন্ত্রী পদে কি বদল আসছে? ডিকে শিবকুমার কি শেষ পর্যন্ত সিদ্দারামাইয়ার জায়গা নিতে চলেছেন? বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এই ধোঁয়াশা কেটে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর। আর তার আগেই নজরে সিদ্দারামাইয়ার বাড়িতে শিবকুমারের প্রাতরাশ বৈঠক।
২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ের পর থেকেই কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত দলীয় নেতৃত্ব বর্ষীয়ান নেতা সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী করেন এবং ডিকে শিবকুমারকে উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।


কংগ্রেসের অন্দরমহলের সূত্রে তখনই জল্পনা ছড়ায়, আড়াই বছর পর মুখ্যমন্ত্রী পদে রদবদল হতে পারে। সেই অনুযায়ী শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসানোর বিষয়ে নাকি মৌখিক সমঝোতাও হয়েছিল।
কিন্তু সময় গড়ালেও মুখ্যমন্ত্রী বদলের কোনও আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত না মেলায় দলের ভিতরে অস্বস্তি বাড়তে শুরু করে। প্রকাশ্যে কিছু না বললেও শিবকুমারের অনুগামী বিধায়কদের একাংশ বারবার নেতৃত্বের কাছে দাবি তুলতে থাকেন।
কয়েক মাস আগে কর্নাটকের কংগ্রেস বিধায়কদের একাংশ দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করার পর থেকেই জল্পনা আরও তীব্র হয়। তারপর থেকেই দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক শুরু হয় সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমারের সঙ্গে।


মঙ্গলবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের বাসভবনে দীর্ঘ ছ’ঘণ্টার বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, কেসি বেণুগোপাল, রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা-সহ শীর্ষ নেতারা। বৈঠকের পর বেণুগোপাল দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী বদল নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, মূলত রাজ্যসভা নির্বাচন ও বিধান পরিষদ ভোট নিয়েই কথা হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি আশ্বস্ত নয়। বিভিন্ন সূত্রে দাবি, কংগ্রেস নেতৃত্ব সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বিনিময়ে তাঁর ছেলে যতীন্দ্রকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া এবং রাজ্যসভায় পাঠানোর আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
যদিও এখনও পর্যন্ত সিদ্দারামাইয়া পদ ছাড়তে রাজি নন বলেই দাবি রাজনৈতিক সূত্রের। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবারের বৈঠক ও পরবর্তী ঘোষণা ঘিরে কর্নাটকের রাজনৈতিক মহলে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



