পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে রাজ্য বাজেট অধিবেশন এবং ২২ জুন পেশ করা হবে বাজেট। সরকার পরিবর্তনের পর এটিই হবে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ আর্থিক রূপরেখা— ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা ও জল্পনা দুই-ই তুঙ্গে।
নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যপালের ভাষণের মাধ্যমে বাজেট অধিবেশনের সূচনা হবে। সেই প্রস্তুতি নিয়েই মঙ্গলবার বিধানসভায় গিয়ে অধিবেশন এবং বাজেট সংক্রান্ত বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকে রাজ্যপালের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, বুধবার রাজভবনে এই বিষয়ে আরও একদফা বৈঠক হতে পারে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী ও অধ্যক্ষ উপস্থিত থাকতে পারেন। বাজেট অধিবেশনের সময়সূচি, ভাষণ এবং অন্যান্য প্রক্রিয়াগত বিষয় নিয়েই মূল আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা।
এই বাজেটকে ঘিরে আগ্রহের অন্যতম কারণ— এটি নতুন সরকারের প্রথম বড় নীতিগত ঘোষণা হতে চলেছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, প্রশাসনিক সংস্কার এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির প্রতিফলন বাজেটে দেখা যেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান।
এর আগে ভোটের আগে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশ করেছিল তৎকালীন সরকার। সেখানে যুব ও সামাজিক কল্যাণমুখী কয়েকটি বড় ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার ক্ষমতার পালাবদলের পর নতুন সরকার কোন খাতে বেশি গুরুত্ব দেয়— সেই দিকেই নজর রয়েছে।
অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো এবং সামাজিক সুরক্ষা— এই কয়েকটি ক্ষেত্রকে ঘিরে বড় ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনও প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়নি।
প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট শুধু আর্থিক নথি নয়, আগামী কয়েক বছরের প্রশাসনিক অগ্রাধিকারেরও ইঙ্গিত বহন করবে। তাই ২২ জুনের বাজেট অধিবেশনের দিকে এখন তাকিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ— সকলেই।



