নজরবন্দি ব্যুরোঃ আমফানের ত্রান পাইয়ে দেওয়ার নামে মহিলা কে ধর্ষন তৃণমূল নেতার? আমফানের ত্রান বিলি নিয়ে রাজ্য জুড়ে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে, এবং সেই অভিযোগ যে অমূলক নয় তাঁর প্রমানও পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ মেনে নিয়ে গড় বাঁচাতে এবার দলের দূর্নীতিগ্রস্ত দের বিরুদ্ধে কড়া ব্যাবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু তাঁর মধ্যেই ঘটল এমন ঘটনা।
ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল হুগলীর এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থল, হুগলির সিঙ্গুরের বোড়াই পহলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহম্মদপুর।সিঙ্গুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।


এই ঘটনায় ফের দলে শীর্ষ নেতাদের নিয়ন্ত্রন নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। কারন ত্রান দেওয়ার নাম করে মহিলা কে ধর্ষন তৃণমূল নেতার এমন ঘটনা ইতিপূর্বে প্রকাশ্যে আসেনি আমফান ত্রান দূর্নিতী কাণ্ডে। বরন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার নির্দেশ দিয়েছেন ত্রান নিয়ে কোন তৃণমূল নেতা যেন দূর্নীতিতে না জড়ায়। কিন্তু যা অভিযোগ উঠেছে তা যদি সত্যি হয় তাহলে যে হুগলী সহ রাজ্যজুড়ে বিড়ম্বনায় পড়ে চলেছে তৃণমূল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আরও পড়ুনঃ নন্দীগ্রামে ত্রান চুরি তৃণমূলের; ড্যামেজ কন্ট্রোলে কঠোর শিশির-পার্থ।
নির্যাতিতার অভিযোগ, আমফানে টালির চালের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয় তৃণমূল নেতা রমেশ পালকে একটা ত্রিপল ও ত্রান দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। এরপর নেতা তাঁকে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ করে ! সোমবার নির্যাতিতা ওই গৃহবধূর সঙ্গে দেখা করেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মহিলা কে সাথে নিয়ে সিঙ্গুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।


একদিকে যখন এইসব চলছে তখন অন্যদিকে আমফানের ত্রান চুরিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতারা এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে দলের শীর্ষ নেতাদের মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নন্দীগ্রামে আমফানের ত্রান চুরি তৃণমূলের? প্রশ্ন এবং দূর্নীতি প্রকাশ্যে আসতেই টাকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে নন্দীগ্রামের ২০০ জনকে শোকজ করা হয়েছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে। তাঁদের মধ্যে ৫৫ জন আবার ত্রান চুরির টাকা ফেরত দিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূল জেলা সভাপতি শিশির অধিকারী।
শিশির অধিকারীর কথায়, “ইতিমধ্যে ৫৫ জন ত্রাণের টাকা ফেরত দিয়েছেন। আশা করি, আরও টাকা ফেরত আসবে। যত বড় নেতাই হোন না কেন, পূর্ব মেদিনীপুরে আমরা কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না। সকলকে দলের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। সরকারের ভাবমূর্তি যাঁরা নষ্ট করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। যাঁদের বহিষ্কার করা হবে তাঁদের একটি নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দল অনুমোদন দিলেই বহিষ্কার করা হবে।”
অন্যদিকে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আমফান ত্রাণ নিয়ে যাঁরা দুর্নীতি করেছেন, “তাঁদের শুধু বহিষ্কার নয়, আরও বড় শাস্তি দেওয়া হবে।”
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



