নজরবন্দি ব্যুরোঃ আমফানের ত্রান বিলি নিয়ে রাজ্য জুড়ে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এবং সেই অভিযোগ যে অমূলক নয় তাঁর প্রমানও পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু তৃণমূলের উত্থান যেখান থেকে শুরু সেই নন্দীগ্রামে যা ঘটল তা এক কথায় নজিরবিহীন। নন্দীগ্রামে ত্রান চুরি তৃণমূলের? অভিযোগ মেনে নিয়ে গড় বাঁচাতে এবার দলের দূর্নীতিগ্রস্ত দের বিরুদ্ধে কড়া ব্যাবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং কেমিক্যাল হাব, এই ছিল বিতর্ক এবং পতনের সূচনা বামফ্রন্ট সরকারের। আন্দোলন বাড়ছে দেখে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নোটিশ জারি করে ঘোষণা করেন কেমিক্যাল হাব হবে না। কিন্তু ততক্ষনে মাওবাদীদের চোরাগোপ্তা হানা, সাথে কলকাতার বুদ্ধিজীবী এবং তৃণমূলের আন্দোলন নড়িয়ে দিয়েছে বুদ্ধদেব সরকারের ভিত। সেই পতনের শুরু, তারপর থেকে পূর্ব মেদিনীপুর বা নন্দীগ্রামে আর মাথা তুলতে পারেনি বামেরা।
কিন্তু কিছুটা হলেও পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে করোনা ভাইরাস। একদিকে যখন পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যু অন্য দিকে তখন লকডাউনে পেটে টান। কমিউনিটি কিচেন গড়ে কার্যত বেসরকারি সরকার চালিয়েছে বামেরা, পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করেছে একাধিকবার যার সামান্য হলেও ফল মিলেছে রাজ্য জুড়েই। রাজ্যের সেই তালিকা থেকে বাদ জায়নি নন্দীগ্রামও।
আরও পড়ুনঃ অবশেষে পিছু হটলো লাল ফৌজ, এবার তিব্বত কে চিনের দখলমুক্ত করার দাবি।
একদা লাল পতাকার গড় নন্দীগ্রামে সিপিআইএমের বন্ধ পার্টি অফিস খুলে দিয়েছে বাড়ি ফেরা পরিযায়ী শ্রমিক এবং তাদের বাড়িড় লোকজন। চলছে সেই পার্টি অফিস থেকে পুরোদমে ত্রান বিলি। অন্যদিকে করোনা ছড়াতে পারেন সায়ন্তন, এই অভিযগে বিজেপি কে ঢুকতে বাঁধা দেওয়া হয়েছে কাঁথির পথে!
একদিকে যখন এইসব চলছে তখন অন্যদিকে আমফানের ত্রান চুরিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতারা এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে দলের শীর্ষ নেতাদের মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নন্দীগ্রামে আমফানের ত্রান চুরি তৃণমূলের? প্রশ্ন এবং দূর্নীতি প্রকাশ্যে আসতেই টাকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে নন্দীগ্রামের ২০০ জনকে শোকজ করা হয়েছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে। তাঁদের মধ্যে ৫৫ জন আবার ত্রান চুরির টাকা ফেরত দিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূল জেলা সভাপতি শিশির অধিকারী।
শিশির অধিকারীর কথায়, “ইতিমধ্যে ৫৫ জন ত্রাণের টাকা ফেরত দিয়েছেন। আশা করি, আরও টাকা ফেরত আসবে। যত বড় নেতাই হোন না কেন, পূর্ব মেদিনীপুরে আমরা কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না। সকলকে দলের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। সরকারের ভাবমূর্তি যাঁরা নষ্ট করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। যাঁদের বহিষ্কার করা হবে তাঁদের একটি নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দল অনুমোদন দিলেই বহিষ্কার করা হবে।”
অন্যদিকে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আমফান ত্রাণ নিয়ে যাঁরা দুর্নীতি করেছেন, “তাঁদের শুধু বহিষ্কার নয়, আরও বড় শাস্তি দেওয়া হবে।”



