বদলের বাংলায় বন্ধ হল তৃণমূল ভবন, বাইপাসের দলীয় কার্যালয়ের দখল নিলেন বাড়ির মালিক!

বাইপাসের তৃণমূল ভবন খালি করার প্রক্রিয়া শুরু। চতুর্থ ও পঞ্চম তলার দখল নিলেন মালিকপক্ষ, চুক্তি ও ভাড়া নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতা: রাজ্য রাজনীতির অস্থির আবহের মধ্যেই বড়সড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল তৃণমূল ভবন। মেট্রোপলিটন বাইপাস সংলগ্ন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় খালি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভবনের একাংশের দখল নিয়েছেন বাড়ির মালিক, ফলে কালীঘাটের বাইরে তৃণমূলের প্রধান সংগঠনিক কেন্দ্র নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরেই ধাপে ধাপে বাইপাসের ধারের ওই ভবন খালি করার কাজ চলছিল। মঙ্গলবার থেকে আরও জোরদার হয় সেই প্রক্রিয়া। বিশেষ করে ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলা থেকে দলীয় সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়।

জানা গিয়েছে, ভবনটির মালিক মডার্ন ডেকরেটরসের কর্ণধার মন্টু সাহা (Mantu Saha)। তাঁর পরিবারের দাবি, তৃণমূলকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল ভবনের প্রথম তিনটি তলা। তবে পরবর্তী সময়ে উপরতলার অংশেও দলীয় কর্মকাণ্ড চলত।

মঙ্গলবার মন্টু সাহা তাঁর ছেলে অমিত সাহা ও পুত্রবধূকে নিয়ে ভবনে যান। সেখানেই একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। পরে চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় গিয়ে ঘর খালি করার কাজ তদারকি করেন পরিবারের সদস্যরা। সরিয়ে নেওয়া হয় ব্যানার, পোস্টার, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন দলীয় সামগ্রী।

পরিবারের দাবি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বাকি তলাগুলিও খালি করে দেওয়ার বিষয়ে তাঁদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যদিও এই দাবি নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে তৃণমূলের একাংশের।

২০২২ সালে মেট্রোপলিটন বাইপাসের কাছে অবস্থিত এই ভবনটি দলীয় সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহার শুরু করে তৃণমূল। ওই বছরের মে মাসে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) উপস্থিত থেকে পুজো ও যজ্ঞের মাধ্যমে কার্যালয়ের উদ্বোধন করেছিলেন।

কর্পোরেট ধাঁচে সাজানো এই কার্যালয়ে ছিল লিফট, বৈঠকখানা, সিসিটিভি নজরদারি এবং বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কালীঘাটের পাশাপাশি দলীয় প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাজের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হত ভবনটি।

মন্টু সাহার পরিবারের দাবি, ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভবনটি ভাড়ার চুক্তিতে ছিল। পরে মৌখিক সমঝোতার ভিত্তিতে আরও কিছু সময় ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছিল। সেই মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছে বলে তাঁদের বক্তব্য।

অন্যদিকে তৃণমূলের একটি অংশের দাবি, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে এবং চুক্তির মেয়াদ রয়েছে ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। বিষয়টি স্থানীয় থানাকেও জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে বলে দাবি দলের।

এদিকে গত কয়েকদিন ধরে ভবনের দখল ফেরত পেতে মালিকপক্ষের তৎপরতা নজরে এসেছে। সোমবার রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সঙ্গেও দেখা করেন মন্টু সাহা। মঙ্গলবারও তিনি ভবনে যান। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, তৃণমূলের এই পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন তিনি।

বাইপাসের এই কার্যালয় সম্পূর্ণ খালি হয়ে গেলে কালীঘাটের বাইরে তৃণমূলের আর কোনও বড় সংগঠনিক কেন্দ্র থাকবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ফলে ভবিষ্যতে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় এর কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর