রাজ্যসভা নির্বাচনে (Rajya Sabha Election) নিজেদের চার জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার দলের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে প্রার্থীদের নাম জানালো রাজ্যের শাসক দল। এই চারজন হলেন, প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব, মতুয়া মহাসংঘের সঙ্ঘাধিপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর, নাদিমুল হক এবং সাংবাদিক সাগরিকা ঘোষ। পুরোনোদের মধ্যে রাজ্যসভার মনোনয়ন পেলেন না দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা (সদর) তৃণমূলের সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী, আবীররঞ্জন বিশ্বাস ও শান্তনু সেন।
আরও পড়ুন: ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন অভিষেক, এখন কী করে ওই সংস্থা?


মতুয়া ভোটকে নিজেদের দিকে ঘোরাতেই মমতাবালা ঠাকুরকে রাজ্যসভায় (Rajya Sabha Election) প্রার্থী করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরকমই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। একসময় এই মতুয়া ভোটের সম্পূর্ণটাই ছিল তৃণমূলের দখলে। কিন্তু সেখানে ভাগ বসিয়েছে বিজেপি। শুধু ভাগই বসিয়েছে তাই নয়, মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় সাংসদ ও বিধায়ক রয়েছে বিজেপির। বনগাঁ থেকে সাংসদ হয়েছেন মতুয়া ঠাকুর বাড়ির বড়মা প্রয়াত বীণাপাণী ঠাকুরের ছোট নাতি শান্তনু ঠাকুর। অন্যদিকে, বড় নাতি সুব্রত ঠাকুর গাইঘাটার বিধায়ক।

এবার সামনে লোকসভা নির্বাচন। সেখানেও ফ্যাক্টর হতে পারে মতুয়া ভোট। মতুয়া ভোটকে যে কোনও মূল্যেই নিজেদের ঝুলিতে আনতে বদ্ধপরিকর বিজেপি। লোকসভার আগেই আবার সিএএ কার্যকর করার কথা ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই দাবি মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের অনেকদিনের। তাই এবার মমতাবালা ঠাকুরকে রাজ্যসভার (Rajya Sabha Election) প্রার্থী করে পাল্টা চাল দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।



লক্ষ্য মতুয়া ভোট, রাজ্যসভায় মমতাবালাকে প্রার্থী করে চমক তৃণমূলের, তালিকায় আর কারা?
অন্যদিকে, সুস্মিতা দেব ২০২১ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁকে মানস ভুঁইয়ার ছেড়ে যাওয়া আসনেই রাজ্যসভায় পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৩ সালে তাঁর মেয়াদ শেষ হয়। এরপর তাঁকে আর রাজ্যসভায় পাঠায়নি তৃণমূল। সুস্মিতা একজন ভালো বক্তা, সংগঠনের কাজেও আগ্রহী। তাই এবার তাঁকে ফের রাজ্যসভায় (Rajya Sabha Election) প্রার্থী করা হল।

নাদিমুল হক এই নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য রাজ্যসভার (Rajya Sabha Election) প্রার্থী হলেন। সাংবাদিক সাগরিকা ঘোষও সুবক্তা। তবে, কিছুটা আশ্চর্যের বিষয় শান্তনু সেনকে প্রার্থী করল না তৃণমূল। হয়তো তাঁকে আরও বৃহৎ দায়িত্বে আনা হতে পারে। প্রসঙ্গত, এই চার আসনে তৃণমূলের জয় কার্যত নিশ্চিত। তবে, এই প্রার্থীতালিকা যে যথেষ্ট ভেবেচিন্তে তৈরি করা হয়েছে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।







