ভোটের মুখে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল তল্লাশি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও নজরে রাখা হচ্ছে—যা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেও অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে তাঁর পরিবারকে নিশানা করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে কয়েকটি স্ক্রিনশট, যেখানে দাবি করা হচ্ছে—বাইরের রাজ্য থেকে বিপুল নগদ অর্থ বাংলায় ঢোকার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


তৃণমূলের অভিযোগ, এই নির্দেশে দলীয় নেতা-মন্ত্রীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও তল্লাশির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। যদিও এই বার্তাগুলির সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “এই ধরনের নির্দেশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শুধু তৃণমূল নেতাদেরই কেন নিশানা করা হবে? অন্য দলগুলির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত।” তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও একইভাবে পরীক্ষা করা হোক।
তৃণমূলের তরফে আরও অভিযোগ, বিভিন্ন প্রশাসনিক আধিকারিকদের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে নির্দেশ পাঠানো হচ্ছে, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু জেলায় তল্লাশি জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং নেপাল সীমান্ত দিয়ে নগদ অর্থ ঢোকার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি।


এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখনও পর্যন্ত Election Commission of India-এর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বাড়ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে নির্বাচনী আবহ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তল্লাশি ও নজরদারির প্রশ্নে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে কমিশনের ভূমিকা, কেন্দ্রীয় সংস্থার সক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ—এই তিনের সমীকরণেই এখন উত্তাল বাংলার রাজনীতি।








