টিটাগড় পুরসভা ঘিরে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার ভাইস চেয়ারম্যান-সহ মোট ৬ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় পুরসভার অন্দরে বড়সড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পদত্যাগী জনপ্রতিনিধিদের দাবি, তাঁরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছিলেন না। পাশাপাশি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগও কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
২৩ ওয়ার্ডের টিটাগড় পুরসভায় বর্তমানে কার্যকর কাউন্সিলরের সংখ্যা ছিল ২১। এর মধ্যে একসঙ্গে ৬ জনের পদত্যাগ স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রশাসনিক কাজকর্ম ও পুরবোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
শুক্রবার পদত্যাগপত্র জমা দেন টিটাগড় পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরী এবং ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জলিল। তাঁদের সঙ্গে পদত্যাগ করেন কাউন্সিলর মুজিবর রহমান, আশা শর্মা, সরস্বতী দাস এবং ইনাম খান।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, টিটাগড় পুরসভার মোট ২৩টি ওয়ার্ড রয়েছে। এর আগে দুই কাউন্সিলরের মৃত্যু হওয়ায় সক্রিয় কাউন্সিলরের সংখ্যা কমে ২১-এ নেমে এসেছিল। সেই পরিস্থিতিতে আরও ৬ জনের পদত্যাগ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পদত্যাগী কাউন্সিলরদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল। এলাকার মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
এছাড়াও তাঁরা জানিয়েছেন, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কার্যত কোনও যোগাযোগ নেই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত বা নির্দেশ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন পদত্যাগী কাউন্সিলররা।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন পুরসভায় যে ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, টিটাগড়ের ঘটনাও সেই প্রবণতারই অংশ হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও দলীয় নেতৃত্বের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
একসঙ্গে ৬ জন জনপ্রতিনিধির পদত্যাগে টিটাগড় পুরসভার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দা থেকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।



