দুধকে সুষম খাবারের তালিকায় রাখেন পুষ্টিবিদরা। সদ্যোজাত শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ, সবার জন্যই দুধ একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর খাদ্য। এটি ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ। তবে দুধের উপকারিতা নির্ভর করে সঠিক সময়ে এবং সঠিক পরিমাণে খাওয়ার ওপর।
কখন দুধ খাওয়া উচিত?
বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদ শম্পা চক্রবর্তীর মতে, দুধ খাওয়ার সময় শরীরের প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করা জরুরি।


- অম্বলের সমস্যা থাকলে:
- সকালে দুধ খেলে গলা-বুক জ্বালা হতে পারে।
- এ ক্ষেত্রে রাতে ঠান্ডা দুধ খেলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে।
- শিশুদের জন্য:
- সকালে দুধ খাওয়ানো সবচেয়ে ভালো।
- রাতে ঘুমানোর আগে দুধ খেলে ঘুম ভালো হয় এবং ক্যালশিয়াম শোষণ বাড়ে।
কতটা দুধ খাওয়া উচিত?
পুষ্টি বিশেষজ্ঞ এবং হার্ভার্ড বিজ্ঞানীদের মতে, এক জন ব্যক্তির বয়স এবং শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী দুধের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
- প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও মহিলা:
- মহিলারা দিনে ২-৩ কাপ দুধ খেতে পারেন।
- পুরুষদের জন্য এই পরিমাণ ৩-৪ কাপ।
- দুগ্ধজাত খাবার (পনির, ছানা) খেলে দুধের পরিমাণ কমাতে হবে।
- শিশুদের ক্ষেত্রে:
- ১২-২৪ মাস: দিনে ২-৩ কাপ।
- ২-৫ বছর: দিনে ২-২.৫ কাপ।
- ৫-৮ বছর: দিনে ২.৫ কাপ।
- ৯ বছরের বেশি: দিনে ৩ কাপ।
দুধের বিকল্প কী?
যাঁদের গরুর দুধে অ্যালার্জি রয়েছে, তাঁরা উদ্ভিদজাত দুধের ওপর নির্ভর করতে পারেন।
- উদ্ভিদজাত দুধের ধরন:
- আমন্ড মিল্ক
- কোকোনাট মিল্ক
- ওট্ মিল্ক
- সয়া মিল্ক
এগুলো প্রাণিজ দুধের সেরা বিকল্প। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এই দুধ খাওয়ানোর আগে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। যদি দুধ খাওয়ার পর বমি ভাব, অম্বল বা হজমের সমস্যা দেখা দেয়, তবে দুধ খাওয়া বন্ধ রাখাই ভালো।









