পরিবার পিছু সরকারি চাকরি, মহিলাদের মাসে ₹2500 — নির্বাচনী ইস্তেহারে তেজস্বীর বড় প্রতিশ্রুতি

‘তেজস্বী প্রাণ’ ইস্তেহারে চাকরি, বিদ্যুৎ ও নারীদের মাসিক ভাতা— বিহারে ভোটের আগে মহাগটবন্ধনের নজিরবিহীন ঘোষণা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে তেজস্বী যাদবের নির্বাচনী ইস্তেহার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। মহাগটবন্ধনের প্রকাশিত ‘তেজস্বী প্রাণ ইস্তেহার ২০২৫’-এ এমন সব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি সাধারণ ভোটারদের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। মূল আকর্ষণ— প্রতিটি পরিবারকে সরকারি চাকরি এবং মহিলাদের মাসিক ₹2500 ভাতা।

ইস্তেহারের স্লোগানেই ধরা পড়েছে ভোটের বার্তা— “সম্পূর্ণ বিহার কা সম্পূর্ণ পরিবর্তন, তেজস্বী প্রতিজ্ঞা, তেজস্বী প্রাণ।” প্রচ্ছদে তেজস্বীর হাসিমুখ, পাশে ‘সংকল্প পত্র ২০২৫’। মহাগটবন্ধনের দাবি, তারা ক্ষমতায় এলে ২০ দিনের মধ্যেই আইন আনা হবে, যাতে প্রতিটি পরিবারকে একটি করে সরকারি চাকরি দেওয়া যায়। এবং ক্ষমতায় আসার ২০ মাসের মধ্যে চাকরি বণ্টন শুরু হবে।

পরিবার পিছু সরকারি চাকরি, মহিলাদের মাসে ₹2500 — নির্বাচনী ইস্তেহারে তেজস্বীর বড় প্রতিশ্রুতি
পরিবার পিছু সরকারি চাকরি, মহিলাদের মাসে ₹2500 — নির্বাচনী ইস্তেহারে তেজস্বীর বড় প্রতিশ্রুতি

মহিলাদের জন্য তেজস্বীর বড় ঘোষণা, ‘মাই-বহিন মান যোজনা’-র আওতায় প্রতিটি মহিলাকে মাসে ₹2500 দেওয়া হবে— অর্থাৎ বছরে ₹30,000। ইস্তেহারে আরও বলা হয়েছে, সব স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাকে স্থায়ী সরকারি চাকরি দেওয়া হবে, যাঁদের মাসিক বেতন হবে ₹30,000।

শুধু তাই নয়, চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিং কর্মচারীদের স্থায়ী করা, ২০০ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও দরিদ্র পরিবারকে ₹500 টাকায় গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে মহাগটবন্ধন। এই পদক্ষেপগুলিকে তেজস্বী বলছেন “বাস্তবভিত্তিক ও অর্থনৈতিকভাবে সম্ভব” প্রতিশ্রুতি।

ইস্তেহারে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতি নাগরিকের জন্য ₹25 লক্ষ স্বাস্থ্য বীমা, বিধবাদের মাসিক ভাতা, বরিষ্ঠ নাগরিকদের ₹1500 টাকা করে পেনশন (প্রতি বছর ₹200 করে বাড়বে) এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য ₹3000 টাকা মাসিক ভাতা— এমনই একাধিক আশ্বাসে ভরপুর পুরো নথি।

তেজস্বীর দাবি, তাঁর এই প্রতিশ্রুতিগুলি কোনও ফাঁকা কথা নয়। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, “আমরা তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলছি। বিহারের রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করেই এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আমি জনতার প্রতি দায়বদ্ধ, রাজনৈতিক প্রতারণা নয়।”

তবে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই ‘তেজস্বী প্রাণ’ ইস্তেহার ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, “এটি নির্বাচনী কৌশল মাত্র, অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবায়ন অসম্ভব।” কিন্তু মহাগটবন্ধনের শিবিরে আত্মবিশ্বাস, এই ইস্তেহারই ভোটের মোড় ঘুরিয়ে দেবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তেজস্বী যাদব এবার তরুণ ভোটার ও মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে টার্গেট করছেন। ‘চাকরি ও সম্মান’— এই দুটি প্রতিশ্রুতিই বিহারের ভোটযুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন