নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাড়ির কাছে বদলি চাই। শিক্ষক দিবসের প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রীকে আর্তি শিক্ষকদের। অপেক্ষা করতে করতে পেরিয়ে গেছে অনেকগুলি বছর, বাড়ির কাছে বদলির কোন সুযোগ আসে নি। একদিকে সুবিধামতো মিউচুয়াল পাচ্ছেন না, অন্যদিকে ২০১৪ সালের পর থেকে জেনারেল ট্রান্সফার বন্ধ। আবার স্পেশাল গ্রাউন্ডে ট্রানস্ফার পাবার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে না। শিক্ষকরা ভরসা রেখেছেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা তে। কিন্তু তারপরেও প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেছে।
আরও পড়ুনঃ অসমে দুর্গাপুজো বন্ধ করার আহ্বান সংযুক্ত মুক্তি বাহিনীর


কিভাবে এই বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে সে বিষয়ে শিক্ষা দপ্তর থেকে এখনো পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোন দিশা নেই। এই সমস্ত ভুক্তভোগী শিক্ষক-শিক্ষিকারা চিঠি পাঠিয়ে, ইমেইলের মাধ্যমে, ফেসবুক মেসেঞ্জারে মেসেজ করে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এবং মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তাদের বদলির প্রয়োজনীয়তা , তাদের আর্তি তুলে ধরেছেন। এই সকল শিক্ষক শিক্ষিকাদের একত্রিত করতে ইউনাইটেড টিচার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন বিগত দিনগুলোতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে থাকলেও, করোনা অতিমারি সংকটকালে ভার্চুয়াল মিটিং এর মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছে।
শিক্ষক দিবসের প্রাক্কালে, গত অগাস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে চারটি ভার্চুয়াল মিটিং এর মাধ্যমে, সারা রাজ্যের বদলিপ্রার্থী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বাড়ির কাছে বদলির আবেদন কে সরকারের কাছে পৌঁছে দেবার চেষ্টা করেছে। গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে ভার্চুয়াল মিটিংয়ের পর ডিজিটাল ভিডিও ক্যাম্পেইন নামে অভিনব আরেকটি কর্মসূচি তারা নিয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেরা অথবা তাদের সন্তানদের দ্বারা অথবা তাদের বয়স্ক পিতা-মাতা বা পরিবারের সদস্যদের দ্বারা বদলির আর্তি জানিয়ে ছোট ছোট ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।
ছোট ছোট শিশুরা বাবা-মাকে কাছে না পাওয়ার যে যন্ত্রণা উল্লেখ করেছে, বয়স্ক পিতামাতারা তাদের দেখভালের জন্য সন্তানদের কাছে পাওয়ার যে আকুতি রাজ্য সরকার তথা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানিয়েছেন, বাড়ির কাছে বদলি না পেলে তা পূরণ হওয়া এক প্রকার অসম্ভব। হুগলি জেলার কামারকুন্ডুতে, জন্ম থেকেই বিশেষভাবে সক্ষম এরকম এক অসহায় কন্যার মায়ের বদলির জন্য করুণ আকুতি সকলের চোখ ভিজিয়ে দেয়। তার মা দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বাইরে কর্মরত।


তাই তার দেখভালের জন্য তার বাবাকে বেসরকারি চাকরি ছাড়তে হয়েছে। UTWA এর আহবানে এই ডিজিটাল ভিডিও ক্যাম্পেইনে এরকম অজস্র ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সংগঠনের রাজ্য কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য শ্রী নিমচাঁদ মার্ডি জানিয়েছেন, “এর আগে সংগঠনের পক্ষ থেকে বাড়ী থেকে দূরে কর্মরত শিক্ষক শিক্ষিকাদের বদলির আবেদন নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আমরা বাইরে বেরোতে পারছিনা।
তাই ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে প্রথমে ভার্চুয়াল মিটিং এবং তার পরবর্তীতে ইমেইল, মেসেজ পাঠানোর পর আমরা এই ডিজিটাল ভিডিও ক্যাম্পেইন কর্মসূচী গ্রহণ করেছিলাম। এই কর্মসূচীর মধ্যে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেরা, কখনো তাদের সন্তানদের দিয়ে অথবা তাদের বয়স্ক পিতামাতাদের মাধ্যমে তাদের বদলি প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে রাজ্য সরকার তথা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে করুণ আর্তি জানিয়েছেন। এই সমস্ত ভিডিওগুলি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি আমাদের UTWA ফেসবুক পেজে আপলোড করা হচ্ছে। এই ভিডিওগুলিকে আমরা সরকারের কাছে পৌঁছে দেবার চেষ্টা করছি”।
সম্পাদক সুশোভন মুখার্জীর কথায়, “দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি থেকে দূরে থেকে বদলি না পেয়ে এই সকল শিক্ষক-শিক্ষিকারা যে যন্ত্রনা তুলে ধরেছেন একমাত্র বাড়ির কাছে বদলি পেলেই তা থেকে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই সকল আর্তিগুলোকে আমরা পৌঁছে দিতে চাই। পাশাপাশি তার কাছে অনুরোধ, তিনি যেন শিক্ষক দিবসের দিন সুস্পষ্ট দিশা দেখিয়ে এই সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অতিদ্রুত বাড়ির কাছে বদলির ব্যবস্থা করে তাদের এই যন্ত্রণা থেকে উদ্ধার করেন।”







