তাঁরা এসেছিল মূলত ভেতরে ঢুকে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে। কিন্তু তাঁদের গেটের বাইরেই আটকে দেয় আরজি করের ছাত্রছাত্রীরা। দিতে থাকে গো-ব্যাক স্লোগান। তাঁদের দাবি আরজিকরের আন্দোলনে কোন রাজনীতির রঙ লাগতে দেবেনা।
দুই সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে উত্তাল গোটা দেশ। প্রশ্নের মুখে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা। নিট ও নেট দুর্নীতির প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আগেই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে এসএফআই।
দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ছাত্র সংগঠনকে সামলিয়েছেন সৃজন ভট্টাচার্য, প্রতীক-উর-রহমান। এবার সে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে চলেছেন দু'জনেই। ২০১৭ সাল থেকে বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক হিসাবে রয়েছেন সৃজন। এই দুই নবীন নেতার পারফরম্যান্সে খুশি আলিমুদ্দিন।
পাল্টা, এভিবিপি (AVBP) নেতা দেবাঞ্জন পাল বলেন, “যাদবপুরে (Jadavpur University) র্যাগিং করা কিছু ছাত্রছাত্রী রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠার স্ক্রিনিং আটকাতে চাইছে। রাম মন্দির শুধু হিন্দু নয়, গোটা দেশের আবেগ। সবাই রাম মন্দিরের জয়গান করছে। সেখানে র্যাগিং করা যাদবপুরের কয়েকজন কম বয়সী ছেলে স্ক্রিনিং আটকাতে পারবে না।”
দিধীতি রায় এবং বর্ণনা মুখোপাধ্যায়কে দায়িত্বে আনার নেপথ্যে অবশ্য আরেকটি কারণ দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। তথ্য বলছে, বাম শিবিরে গত ১৯ মাসে ৩১ বছরের কম, ২৫ বছর বয়সীরা ব্যাপকভাবে সদস্য পদ গ্রহণ করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই নাকি তাতে ঘাটতি হয়েছে। আর সেটাই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বামেদের।
এসএফআই (SFI) নেত্রী আফরিন জানিয়েছেন, "যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) ধর্ম নিরপেক্ষ মনোভাবের পড়ুয়ার সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। শুনেছি, একজন ছাত্র এই স্ক্রিনিং-এর উদ্যোগ নিয়েছে। আসলে ধর্মীয় উস্কানি দিতে চাইছে। এটা যাদবপুরের সংস্কৃতি বিরুদ্ধ। বিভাজনমূলক রাজনীতি এখানে চলবে না। আমরা যতটুকু জানি কর্তৃপক্ষও এই স্ক্রিনিং-এর অনুমতি দেয়নি। ছাত্রছাত্রীরা অবশ্যই বয়কট করবে। আমরা বিকল্প সংস্কৃতির পরিচয় দেব।"
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ ‘কন্ট্রোল’ নাকি বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের (SFI) হাতে, অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের পক্ষে সেখানে নিজেদের দাবিকে প্রতিষ্ঠা করা কার্যত অসম্ভব। এমনই অভিযোগ বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (সংক্ষেপে, ABVP)।