মেয়েদের ওপর ভরসা করেই আগামী দিনে নিজেদের সংগঠনকে আরও বিস্তার করার ভাবনায় সিপিআইএম (CPIM)। কলকাতা জেলা এসএফআই-এর (SFI) নতুন সম্পাদক করা হল দিধীতি রায়কে, সভাপতি পদে আসলেন বর্ণনা মুখোপাধ্যায়। জেলা কমিটির দুই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব এই দুই তরুণীর ওপরেই অর্পণ করল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। বাংলায় এই প্রথম একসঙ্গে সম্পাদক ও সভাপতি পদ মেয়েদের হাতে তুলে দিল বামেরা। এই সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বহু লাল ঝান্ডা সমর্থক।
আরও পড়ুন: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রামমন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্ক্রিনিং! বয়কটের সিদ্ধান্ত SFI-এর


বিধানসভায় শূন্য হলেও বাম (CPIM) দলে তারুণ্যের অভাব নেই। যে কোনও মিছিল বা সমাবেশে সেই চিত্রই আকছাড় ধরা পড়ে। সম্প্রতি ব্রিগেডে ডিওয়াইএফআই-এর সম্মেলনেও তরুণ প্রজন্মের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। তাছাড়া, বামেদের অনেক কম বয়সী নেতানেত্রীরাই এখন বেশ জনপ্রিয়। যেমন, সৃজন ভট্টাচার্য, প্রতীক-উর-রহমান, মীনাক্ষী মুখ্যোপাধ্যায়, দিপ্সীতা ধর, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যেকেই নিয়মিতভাবে পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টায় ব্রতী রয়েছেন।

তারুণ্যের এই ভরা জোয়ারকেই নিজেদের উন্নতির কাজে ব্যবহার করতে চাইছে আলিমুদ্দিন। নেপথ্যে থাকতে চাইছেন পুরোনো সাদা চুলের নেতারা। সামনে এগিয়ে আনা হচ্ছে দৃঢ় মনোভাবের যুবক-যুবতীদের, যারাই আশা জোগাচ্ছেন আগামীতে ঘুরে দাঁড়াবার লড়াইয়ে। সূর্যকান্ত মিশ্র, বিমান বসু বা সুজন চক্রবর্তী প্রত্যেকেই চাইছেন কমবয়সী ছেলেমেয়েরা পার্টির কাজে আরও দায়িত্ব নিক।



SFI-এর অন্দরে নারীশক্তির জয়গান, দুই তরুণীকে গুরুদায়িত্ব দিল আলিমুদ্দিন
দিধীতি রায় এবং বর্ণনা মুখোপাধ্যায়কে দায়িত্বে আনার নেপথ্যে অবশ্য আরেকটি কারণ দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। তথ্য বলছে, বাম শিবিরে গত ১৯ মাসে ৩১ বছরের কম, ২৫ বছর বয়সীরা ব্যাপকভাবে সদস্য পদ গ্রহণ করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই নাকি তাতে ঘাটতি হয়েছে। আর সেটাই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বামেদের।

কারণ, যে কমবয়সীরাই তাঁদের মূল শক্তি, সেখানে যদি ভাঁটা পড়ে তাহলে লড়াই করা আরও কঠিন হবে তা বলাই বাহুল্য। এদিকে সৃজন ও প্রতীক-উরকেও ছাত্র সংগঠন থেকে সরিয়ে মূল পার্টির কাজে আনা হবে বলে জানা যাচ্ছে। এখন দিধীতি আর বর্ণনা কতটা সফল হন সেটা সময় বলবে।







