নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডলের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হল। তদন্তের স্বার্থেই সমস্ত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে সিবিআই। জানা গেছে, তাপসের ১২ টি অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলেছে। যেখানে বিরাট অঙ্কের টাকার লেনদেন হয়েছে বলেও জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। সেই টাকার উৎস জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তাপস মণ্ডলকে।
কুন্তলের জামিনের আবেদন খারিজ করে ফের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। কিন্তু আদালতে এদিন যা ঘটল, তা নিয়েও বেশ কিছুটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, বিচারকের সামনে এদিন সম্পূর্ণ উত্তর দিলেন না বিচারক। বরং প্রশ্ন রেখেই কুন্তলের উত্তর সব কিছুর মধ্যে একটা পর্দা রয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষকে গ্রেফতার করেছে ইডি। এরপরেই কুন্তলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একের পর তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। যার মধ্যে নিয়োগের জন্য প্রতিটি বিভাগে রেটচার্ট। দুর্নীতি চক্রের মাথাদের তৈরি রেটচার্ট কেমন ছিল? সেটা দেখেই চোখ কপালে উঠেছে ইডির।
ভুয়ো নিয়োগের পর ২ থেকে ৩ বছর ধরে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জেলা পরিদর্শকদের যুক্ত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। হাইকোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছিল। এবার ভুয়ো নিয়োগ নিয়ে সক্রিয় সিআইডি। মুর্শিদাবাদের সুতির এআর গোথা হাইস্কুলে উপস্থিত হন সিআইডি আধিকারিকরা।
নিয়োগ দুর্নীতিতে নতুন নাম গোপাল দলপতি। মঙ্গলবার ইডির দফতরে উপস্থিত হলেন গোপাল দলপতি। তবে টাকা যে নিয়েছেন, সেটা প্রমাণের দায়িত্ব তাঁর, এমনটাই মন্তব্য করে বসলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডল। এমনকি চাকরি প্রার্থীদের গোপালই যে অফিসে নিয়ে আসতেন, তা জানাচ্ছেন তাপস মণ্ডল।
প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রাক্তন সিবিআই কর্তা ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উপেন বিশ্বাসের মুখে উঠে এসেছে রঞ্জন ওরফে বাগদার চন্দন মণ্ডলের। শনিবার নিজাম প্যালেসে হাজিরা দিলেন তিনি। সিবিআই দফতরে প্রবেশের মুখে নাম না করে জানালেন, কাউকে চাকরি দিইনি। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
অন্যদিকে, শুক্রবারেই কুন্তলের নিউটাউনে উজ্জ্বলা আবাসনে পৌঁছে যান ইডি আধিকারিকরা। সেখানে কুন্তলের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেই দুটি ফ্ল্যাটেই সকাল থেকে চলছে তল্লাশি। সব মিলিয়ে, নিয়োগ দুর্নীতিতে জোড়া তল্লাশি অভিযান ইডির। নজরে তৃণমূলের দুই নেতা।