"রাজ্যপাল পদের অবমাননা করেছেন", বিমানকে সরাসরি চিঠি লিখে তোপ ধনখড়ের। রাজ্যের সঙ্গে রাজ্যপালের তেঁতো সম্পর্ক অব্যাহত। রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস তৃতীয়বার সরকার গঠন করার পর থেকেই সেই সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকেছে। রাজ্যে ভোট কেন্দ্রিক হিংসা নিয়ে বারবার রাজ্যকে আক্রমন শানিয়েছেন রাজ্যপাল। রাজ্যের নেতারাও পাল্টা আক্রমন করেছেন রাজ্যপালকে।
স্পিকার বৈঠক, ধনখড়ের বিরুদ্ধে ওম বিরলাকে বিস্ফোরক অভিযোগ বিমানের। রাজ্য-রাজ্যপালের দ্বন্দ্ব বহুদিনের হলেও সাম্প্রতিককালে নয়া সরকার গঠনের পর থেকেই তা মাত্রাছারা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে রাজ্যে ভোটকেন্দ্রিক ও পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্যপাল যেমন আক্রমন শানাচ্ছে রাজ্য সরকারকে অন্যদিকে তেমন রাজ্যও তাঁর বিরুদ্ধে সংবিধানের বাইরে কাজ করার অভিযোগ তুলছে। এমন টানাপোড়েনের পরিস্থিতিতে এবার রাজ্যপালের বিরুদ্ধে খোদ আসরে নামলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যপাল বৈঠকে ব্যস্ত দিল্লিতে, আর এদিকে নতুন রাজ্যপাল নিয়োগ নিয়ে জল্পনা রাজ্য সরকার এবং বর্তমান রাজ্যের রাজ্যপাল এর মধ্যে সংঘাত কোন নতুন ঘটনা নয়। জাগদীপ ধনকার এর সাথে তৃণমূল সরকারের ঠান্ডা লড়াই বহুদিন থেকেই। আর এই ঠান্ডা লড়াই মাঝে মাঝে টুইটারে চিঠিতে এমনকি সাংবাদিক সম্মেলনে একে অপরের উপরে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় সবকিছুই দেখেছে বাংলার মানুষ।
দিল্লী পৌঁছতেই একের পর এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সাথে বৈঠক রাজ্যপাল ধনখরের। একদিকে দলের নেতা কর্মীদের একের পর এক পদত্যাগ ও বেসুরো গাওয়া সাথে ভোট পরবর্তী হিংসা, সবমিলিয়ে যথেষ্ট চাপে রাজ্য বিজেপি। এমন অবস্থায় দলের ভাঙন ঠেকাতে ও ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে দরবার করতে জনা ২৪ বিধায়ক নিয়ে রাজভবনে দুদিন আগেই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
মাতৃহারা পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে উপস্থিত রাজ্যপাল জগদীপ ধনখর। রাজ্যের সঙ্গে বরাবরই নরমে গরমে সম্পর্ক রাজ্যপাল জগদীপ ধনখরের। বরাবরই রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা ও কেন্দ্রের প্রশংসা শোনা যায় তাঁর মুখে। রাজ্যে মমতা সরকার তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় ফেরার পর সেই সম্পর্ক উন্নত হবে বলে আশা করা হয়েছিল। শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে সেই ইঙ্গিত দেখা গেলেও শপথ মিটতেই সেসব উধাও হয়ে যায়।
দলের ভাঙন ঠেকাতে আজ বিধায়কদের নিয়ে রাজভবন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। একে ২০০ আসনের কথা বলে সাতের ঘরেই থেমে যাওয়া। তারপর থেকেই একের পর এক নেতা কর্মীর বেসুরো গাওয়া, আর শেষে মুকুলের তৃণমূলে ফিরে যাওয়ার পরে একের পর এক দলত্যাগের হিড়িক সব মিলিয়ে ঘরে বাইরে চূড়ান্ত চাপে রাজ্য বিজেপি।
রাজ্যের পরিস্থিতি 'অত্যন্ত উদ্বেগজনক', আশঙ্কা জানিয়ে মুখ্যসচিবকে তলব রাজ্যপালের। রাজ্যের সঙ্গে বরাবরই তেঁতো সম্পর্ক রাজ্যপাল জগদীপ ধনখরের। বরাবরই রাজ্যের চরম বিরোধিতা করে বিজেপির হয়ে কথা বলতে অভ্যস্ত তিনি। কিছুদিন আগেই তৃতীয় মমতা সরকারের শপথগ্রহনের পরেই সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন।