চাঁদে রাত নামার সঙ্গে সঙ্গেই কিন্তু ঘুমের দেশে ডুব দিয়েছে চন্দদ্রযান-৩-এর ল্যান্ডার বিক্রম। কিন্তু ঘুমের মধ্যে কেমন দেখাচ্ছে বিক্রমকে? এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু চন্দ্রযান-৩-এর পূর্বসূরি চন্দ্রযান-২। ইসরো প্রকাশ করেছে সেই ছবি। খুব স্পষ্ট না হলেও বিক্রমের উপস্থিতি কিন্তু বেশ ভালোই বোঝা যাচ্ছে।
সূর্য অস্তাচলে। রাত নেমেছে চাঁদে। আর আঁধার নামার সঙ্গে সঙ্গেই তাপমাত্রা ঝড়ের গতিতে কমছে চন্দ্রপৃষ্ঠের। রাতে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর তাপমাত্রা কখনও কখনও মাইনাস ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচেও নেমে যায়! তো, এই চরম ঠাণ্ডা পরিবেশে ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভার প্রজ্ঞানকে বাঁচানোই এখন বড়ো চ্যালঞ্জ ইসরোর সামনে।
এবার আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশযান থেকে ধরা পড়ল বিক্রমের ছবি। ছবিটি তুলেছে নাসার উপগ্রহ লুনার রিকনেসান্স অরবাইটার, সংক্ষেপে LRO। নিজেদের এক্স (ট্যুইটারের বর্তমান নাম) হ্যান্ডেলে ছবিটি প্রকাশ করে নাসা লিখেছে, “এলআরও মহাকাশযান চন্দ্রপৃষ্ঠে চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডারের ছবি তুলেছে।“
চন্দ্রযান-৩। এই মহাকাশযানের নাম সহজে ভুলবেন না ভারতবাসীরা। কেন? সে কি আর বলার অপেক্ষা রাখে! প্রথমবারের জন্য চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে একটি মহাকাশযানকে অবতরণ করিয়েছে কোনও দেশ। তার নাম ভারত। এই কাজ আগে কেউ করেনি। এখন কথা হল, মিশন চন্দ্রযান ভবিষ্যতের জন্য কী ভূমিকা রাখবে?
দিন শেষ হয়েছে চাঁদে। দীর্ঘ ১৪ দিন টানা কাজ করার পর ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভার প্রজ্ঞানকে। এখন চাঁদে নামছে রাত। তাই নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে দু’জনকেই। তবে, একটি জিনিস কিন্তু সক্রিয় থাকবে চাঁদে। আর সেই জিনিসটা ইসরোকে ‘উপহার’ দিয়েছে নাসা। জানেন ব্যাপারটা কী?
চাঁদের দেশে আপাতত কাজ ফুরিয়েছে দুই ভাই বিক্রম আর প্রজ্ঞানের। আপাতত তাঁরা ঘুমিয়ে পড়লেও খুব শীঘ্রই আবার জেগে উঠতে পারে। আসলে 'মৃত্যু' নেই বিক্রম প্রজ্ঞানের। তাঁরা অমর। এই মুহূর্তে চাঁদে নিকষ কালো রাত নেমেছে। তবে, আবার ১৪ দিন পর সূর্যের আলো পড়বে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে। সেই সময় কিন্তু সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বিক্রম আর প্রজ্ঞান। যদি তা সম্ভব হয় তাহলে কিন্তু আবারও দৃষ্টান্ত তৈরি করবে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।