নজরবন্দি ব্যুরো: চাঁদের দেশে আপাতত কাজ ফুরিয়েছে দুই ভাই বিক্রম আর প্রজ্ঞানের। আপাতত তাঁরা ঘুমিয়ে পড়লেও খুব শীঘ্রই আবার জেগে উঠতে পারে। আসলে ‘মৃত্যু’ নেই বিক্রম প্রজ্ঞানের। তাঁরা কি অমর? এই মুহূর্তে চাঁদে নিকষ কালো রাত নেমেছে। তবে, আবার ১৪ দিন পর সূর্যের আলো পড়বে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে। সেই সময় কিন্তু সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বিক্রম আর প্রজ্ঞান। যদি তা সম্ভব হয় তাহলে কিন্তু আবারও দৃষ্টান্ত তৈরি করবে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
আরও পড়ুনঃ রাত নামল চাঁদের বুকে, নিজেদের দায়িত্ব সম্পন্ন করে ঘুমাল ‘বিক্রম’ ও ‘প্রজ্ঞান’
ইসরো জানিয়েছে, প্রজ্ঞানকে ঘুম পাড়ানো গেলেও ‘ছটফটে’ বিক্রম কিছুতেই ঘুমোতে চাইছে না চাঁদে। বিক্রমকে ঘুম পাড়ানোর আগে শেষ মূহূর্তে তাঁর যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করছিলেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। আর সেই সময়ই তড়াক করে লাফিয়ে ওঠে বিক্রম। আর একটু আধটু নয়। চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার উপরে লাফিয়ে ওঠে ভারতীয় চন্দ্রযানের ল্যান্ডার। প্রথমে ঘাবড়ে যান ইসরোর বিজ্ঞানীরা। যদিও তারপর নিজেনিজেই আবার পাখির পালকের ন্যায় (সফট ল্যান্ডিং) চাঁদের মাটিতে অবতরণ করে বিক্রম।

গত ২৩শে অগস্ট চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে অবতরণ করেছে ভারতের চন্দ্রযান। প্রথমবারের জন্য হাতে চাঁদ পেয়েছে ভারত। এরপর প্রায় ১৪ দিন ধরে চাঁদে অনুসন্ধান চালিয়েছে প্রজ্ঞান। এনে দিয়েছে বেশ কিছু তথ্য। সালফার অক্সিজেন সহ একাধিক খনিজের সন্ধান সে যেমন পেয়েছে সেরকমই আবার চাঁদের ভূমিকম্প জরিপ করেছে প্রজ্ঞান।
Chandrayaan-3 Mission:
🇮🇳Vikram soft-landed on 🌖, again!Vikram Lander exceeded its mission objectives. It successfully underwent a hop experiment.
On command, it fired the engines, elevated itself by about 40 cm as expected and landed safely at a distance of 30 – 40 cm away.… pic.twitter.com/T63t3MVUvI
— ISRO (@isro) September 4, 2023
যে কদিন বিক্রম আর প্রজ্ঞান কার্যকর ছিল, সেই সময় চাঁদের দক্ষিণ মেরুর তাপমাত্রা ছিল মাটির ওপরে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর মাটির ১০ সেন্টিমিটার গভীরে মাইনাস ১০ ডিগ্রি। কিন্তু, এবার অন্ধকার নামলে চাঁদের দক্ষিণ পিঠের তাপমাত্রা ২০০ ডিগ্রির নীচে নেমে যাবে। হিমশীতল তাপমাত্রায় অন্ধকারে কাজ করতে পারবে না বিক্রম-প্রজ্ঞান। তাই তাদের হাইবারনেশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় চন্দ্রযানের যন্ত্রপাতিগুলির শক্তির মূল উৎস সূর্য। সৌরশক্তিতে কাজ করছে তারা। ফলে সূর্য ডুবে গেলে বিক্রম বা প্রজ্ঞানের সমস্ত যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ার কথা। তাদের আয়ু মাত্র ১৪ দিন। বিক্রমের সঙ্গে চাঁদে পাড়ি দিয়েছে একটি পেলোড। তার নাম ‘দ্য লেসার রেট্রোরিফ্লেক্টর অ্যারে’, সংক্ষেপে অ্যারে। এই অ্যারে কিন্তু চাঁদে রাত নামলেই কাজ করবে। অ্যারে বানিয়ে দিয়েছে নাসা। চাঁদের বাইরে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বের কক্ষপথে থাকা কোনও মহাকাশযানের লেজার রশ্মি অ্যারে পেলোডের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে।
কাজ ফুরোলেও চাঁদের দেশে ‘মৃত্যু’ নেই বিক্রম প্রজ্ঞানের, আবার কবে ‘নিদ্রাভঙ্গ’ হবে? জানাল ইসরো
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, দূরের মহাকাশযানটির সঙ্গে এলআরএ-র সম্পর্ক স্থাপিত হলে তার সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা হবে। তা থেকে পৃথিবীর দূরত্বও সহজেই অঙ্ক কষে বার করা যাবে। তবে, ১৪ দিন পর কি আবার জেগে উঠবে বিক্রম-প্রজ্ঞান? সে সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও একেবারে অসম্ভব নয়। ২২ সেপ্টেম্বর ফের চাঁদে সূর্যের আলো পড়বে। সক্রিয় থাকবে অ্যারে পোলেড। যদিও ১৪ দিনের ঠান্ডা সহ্য করতে পারে বিক্রম-প্রজ্ঞান তাহলে তাঁদের আবার জেগে ওঠার বিষয়টিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।




