উল্লেখ্য, বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন বায়রন বিশ্বাস। তবে ২০ দিনের মাথায় হঠাৎ দলবদল করেন তিনি। তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) হাত থেকে ঘাসফুলের পতাকা তুলে নেন বায়রন।
এবার দলবদলে ঘটনার পরেই বায়রন বিশ্বাসের সাগরদিঘির বিধায়কের পদ খারিজের দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের করা হল জনস্বার্থ মামলা। জানা গিয়েছে, সোমবার কলকাতা আদালতে জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করে আইনজীবী সৌম্যশুভ্র বিশ্বাস। জানা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি টি শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পঞ্চায়েতের আগেই সরগরম রাজ্য-রাজনীতি! উপনির্বাচনে জিতে ৩ মাসের মধ্যেই দল বদল করেছেন সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস। ঘাটালে তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বাইরন। তার বিধায়কের এই যোগদানের ফলে ফের বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে কংগ্রেস-সিপিএম। তবে দলবদলের ঘটনায় কটাক্ষ করতে ছাড়েনি রাজ্যের শাসক বিরোধী দলগুলি!
তিন মাস আগে উপনির্বাচনে জিতে বাইরন বিশ্বাসের দলবদলের ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের বারাসতের বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। চিরঞ্জিতের কথায়, ‘এভাবে দলবদল করা আমি পছন্দ করি না। এটা লোক ঠকানো। মানুষ তো তাঁকে একটা সিম্বল দেখে ভোট দিয়েছেন। তিনি যদি দলবদল করেন তাহলে আসলে মানুষকেই অপমান করা হয়।’
সাগরদিঘি মডেলে বড় ধাক্কা! সোমবার অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে এলেন সাগরদিঘির কংগ্রেস বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস। অর্থাৎ ফের একবার বিধানসভায় ‘শূন্য’ হয়ে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস। সাগরদিঘি উপনির্বাচনে জিতেই ৩ মাসের মধ্যেই ভোলবদল করেছেন বাইরন বিশ্বাস। কিন্তু তাঁর এই দলবদল সম্পর্কে জানতেনই না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্নের সাংবাদিক সম্মেলন থেকেই এমটাই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এবার এক প্রকার দলবদলের পক্ষেই মন্তব্য করলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তথা প্রত্যয়ী তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ ৭ জনকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। এদিন আদালতে প্রবেশ করার সময় বায়রন বিশ্বাসের দলবদল নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। বললেন, "সবাই তৃণমূলে চলে আসবে!" যদিওবা ঘনিষ্ঠ অর্পিতার প্রসঙ্গে নিরুত্তর রইলেন পার্থ!
বাইরনের এই দলবদলের পর থেকেই বঙ্গে আরও এক বিধায়কে নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। তিনি হলেন রাজ্যের আরও এক বাম-কংগ্রেস সমর্থিত বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। বাইরনের মতোই নওশাদও বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে ভাঙড় থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছেন। তাহলে কি, বাইরনের পরে কি এবার নওশাদ তৃণমূলে যোগ দেবেন? রাজনৈতিক মহলে উঠছে একাধিক প্রশ্ন!