অনুব্রত মণ্ডল। বীরভূমের দোর্দন্ডপ্রতাপ নেতা। শোনা যায়, তাঁর কথায় নাকি জেলায় বাঘে গোরুতে এক ঘাটে জল খায়। এহেন অনুব্রত মণ্ডলের বর্তমান ঠিকানা কিন্তু তিহাড় জেল। গরু পাচার মামলায় নিজের নাম জড়িয়ে চরম বিপাকে দাপুটে নেতা। অথচ অনুব্রতর না থাকাটা কোনো ‘ফ্যাক্টর’ই হল না তৃণমূলের জন্য। আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে হাজারেরও বেশী আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গেল শাসক দল। তাহলে কী তিহাড় থেকে ‘কন্ট্রোল’ করছেন অনুব্রত?
পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব শেষ। এই প্রক্রিয়া শেষ হতেই বেশ কয়েক জায়গায় কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার পথে তৃণমূল। এই একই চেহারা বীরভূমেও। বিরোধীদের মনোনয়ন জমা না পড়ায় একাধিক পঞ্চায়েত দখল করতে পারে তৃণমূল। এনিয়ে দলীয় কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তুঙ্গে।
"অনুব্রত মণ্ডল এখনও দলের জেলা সভাপতি। দলের অনুমোদন নিয়েই সব করেছেন। গরু, কয়লায় নিজের প্রভাব বিস্তার করেছেন। তৃণমূলের যেটা সবথেকে বড় অ্যাজেন্ডা ছিল বিরোধী শূন্য করে দেওয়া তাও দায়িত্বের সঙ্গে পালন করেছেন। তাই তিনি তৃণমূলের কাছে মূল্যবান।" এই কারণেই গ্রেফতারির পরও তৃণমূলের প্রতিনিধি হয়ে দুজন তিহাড় জেলে দেখা করতে গিয়েছেন বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।
তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সকাল ১১ টা নাগাদ জেলে যান রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন এবং বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ অসিত মাল। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। তৃণমূল যে অনুব্রত মণ্ডলের পাশেই আছে একথাও বুঝিয়ে দেন তাঁরা। কয়েকদিন আগেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দিল্লির আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায় এবং মামলার শুনানি পিছিয়ে যায় জুলাই অবধি। তাই অসুস্থ শরীর নিয়ে ঠাই হয়েছে তিহাড়েই।
বীরভূমের সাঁইথিয়ার দুই ব্যবসায়ী প্রিংশু ছাঝের ও আকুল দাস নামে দুই ব্যবসায়ীকে বৃহস্পতিবার নিজাম প্যালসে তলব করা হয়েছে। সিবিআই সূত্রে খবর, গরুপাচারকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত এনামুল হকের সঙ্গে এই দুই চাল ব্যবসায়ীর লেনদেন হয়েছে, এমনটাই হদিশ পেয়েছে সিবিআই। গরু পাচারের টাকা কোথা থেকে কার হাতে যেত, এসব তথ্য জানতে চাওয়া হবে দুজনের কাছ থেকে।