নজরবন্দি ব্যুরো: অনুব্রত মণ্ডল। বীরভূমের দোর্দন্ডপ্রতাপ নেতা। শোনা যায়, তাঁর কথায় নাকি জেলায় বাঘে গোরুতে এক ঘাটে জল খায়। এহেন অনুব্রত মণ্ডলের বর্তমান ঠিকানা কিন্তু তিহাড় জেল। গরু পাচার মামলায় নিজের নাম জড়িয়ে চরম বিপাকে দাপুটে নেতা। অথচ অনুব্রতর না থাকাটা কোনো ‘ফ্যাক্টর’ই হল না তৃণমূলের জন্য। আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে হাজারেরও বেশী আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গেল শাসক দল। তাহলে কী তিহাড় থেকে ‘কন্ট্রোল’ করছেন অনুব্রত?
আরও পড়ুন: লর্ডসে সৌরভের দাদাগিরি! আজকের দিনেই অভিষেক ম্যাচে শতরান করেন মহারাজ


২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের সময় ফুল ফর্মে ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। গরু পাচার মামলা তখন ভবিষ্যত! রাজনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল প্রত্যেকে জানেন বীরভূম জেলায় অনুব্রতর দাপট ঠিক কতখানি। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত তাঁর হাতেই জেলার সমস্ত ভার অর্পণ করেছিলেন। আর বলাই বাহুল্য নেত্রীর মান চিরকাল রেখে গিয়েছেন অনুব্রত। পঞ্চায়েত থেকে বিধানসভা কিংবা লোকসভা- বীরভূম কখনও নিরাশ করেনি তৃণমূলকে। নিরাশ করেননি অনুব্রত নিজেও। ২০১৮ সালে লাল মাটির জেলায় প্রায় ৯৩ শতাংশ আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছিল তৃণমূল।

অবশ্য, এবারের পঞ্চায়েত ভোটের আগে ছবি কিছুটা বদলেছে। কিছুটা নয়, অনেকটাই। গরু পাচার মামলায় মেয়ে সুকন্যা মণ্ডল সহ অনুব্রত গিয়েছেন জেলে। দল অবশ্য তাঁকে বহিষ্কার করেনি। কিন্তু অনুব্রতর জেলায় না থাকাটা তৃণমূলের জন্য বড়ো ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে যেতে পারে বলে মনেও করেছিলেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ, অনেককাল ধরে তিনিই তো ছিলেন বীরভূমের জেলা সভাপতি। কিন্তু তা হয়েও হল না। অনুব্রতর গ্রেফতারের পর বীরভূমের দায়িত্ব নিজে নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। বীরভূমের জন্য তৈরি করেছিলেন কোর কমিটি। সেই কমিটির প্রধান কড়া হয় নানুরের তৃণমূল নেতা কাজল শেখকে। যিনি আবার এলাকায় অনুব্রতর বিরোধী গোষ্ঠী হিসাবেই পরিচিত। আজ জানা গেল, সব মিলিয়ে বীরভূমের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১,০১৯টি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়েছে শাসক দল।

প্রসঙ্গত, আগামী ৮ জুলাই রাজ্যের ৭৩,৮৮৭টি আসনে পঞ্চায়েত নির্বাচন। একদিনেই হবে সমস্ত ভোট প্রক্রিয়া। আদালতের তরফে নির্দেশ কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে করতে হবে গ্রামোন্নয়ন প্রতিনিধিদের সু-নির্বাচন। কারণ, মনোনয়ন পর্ব শুরু হতেই রাজ্যের আনাচে কানাচে থেকে ভেসে আসল হিংসার খবর। রাজনৈতিক হিংসার বলি হলেন ৬ জন। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় ঘটছে বোমাবাজি, হুমকি চিঠি প্রাপ্তির মতো ঘটনা। এমনকি বিরোধী প্রার্থীদের বাড়িতে পাঠানো হচ্ছে সাদা থান, রজনীগন্ধা ফুল! অবশ্য সমস্ত অভিযোগেই জল ঢেলে শাসক দলের বক্তব্য, এসবই বিরোধীদের চক্রান্ত। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এ রাজ্যের মতো শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ভূভারতে কোথাও হয় না।


বীরভূমে বিপুল আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় তৃণমূলের, তিহাড় থেকে কন্ট্রোল করছেন অনুব্রত








