‘বড় ভাইয়ের শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছি…’, স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেপ্তারের পর বিস্ফোরক লকেট

স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেপ্তারের পর টলিউডের অন্দরের ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন লকেট চট্টোপাধ্যায়, আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তদন্তের দাবি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

টলিউডে স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারির পর নতুন করে চর্চায় শিল্পী সংগঠন ও ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তারির পর এবার সরব হলেন অভিনেত্রী ও বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, শুধু স্বরূপ বিশ্বাস নন, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বৃহস্পতিবার রাতে স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করার পর থেকেই টলিপাড়ায় জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন স্তরে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে অনেকেই এই ঘটনাকে ‘অবশ্যম্ভাবী পরিণতি’ বলে মন্তব্য করছেন।

এই আবহে লকেট চট্টোপাধ্যায় জানান, বহু বছর আগেই তিনি প্রকাশ্যে স্বরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ইন্ডাস্ট্রির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পিছনে দু’জনেরই বড় ভূমিকা রয়েছে। লকেটের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কিছু মানুষের নিয়ন্ত্রণে থেকে টলিউডের কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে তাঁর মতে, গোটা ঘটনার দায় শুধুমাত্র স্বরূপ বিশ্বাসের কাঁধে চাপিয়ে দিলে পূর্ণ সত্য সামনে আসবে না। লকেট বলেন, এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যাঁরা বিভিন্ন সময়ে স্বরূপকে সমর্থন করেছেন বা তাঁর সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছেন। তাঁদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বিজেপি নেত্রীর দাবি, এই পরিস্থিতির কারণে বহু টেকনিশিয়ান, শিল্পী ও কলাকুশলী কাজ হারিয়েছেন। অনেকের জীবিকা এবং পেশাগত ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই শুধুমাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করলেই দায় শেষ হয়ে যায় না, বরং পুরো চক্রের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

নিজের বক্তব্যে লকেট ইঙ্গিতপূর্ণভাবে ‘বড় ভাই’ এবং ‘রাঘব বোয়াল’-এর প্রসঙ্গও তোলেন। যদিও কারও নাম সরাসরি উচ্চারণ করেননি, তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আরও বড় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।

লকেটের কথায়, শিল্পীদের কাজের জায়গা হওয়া উচিত সম্মান ও স্বাধীনতার পরিবেশে। কেউ অভিনয় বা শিল্পচর্চার সুযোগ পাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত মর্যাদা বিসর্জন দিতে বাধ্য হবেন, এমন পরিস্থিতি কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা প্রকাশ্যে আসুক, এমনটাই দাবি তাঁর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন