নজরবন্দি ব্যুরোঃ সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের এক একটা কর্মসূচির পাল্টা প্ল্যান বিজেপির থাকেই। এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে রাজভবনের সামনের অবস্থান ধর্নায় আছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও জানিয়ে দিলেন, তিনি ১ লক্ষ লোক নিয়ে কলকাতায় সমাবেশ করতে চলেছেন। গেরুয়া নেতার কথায়, এই লোকেরা যোগ্য হলেও কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বঞ্চিত। আর এই সমাবেশে উপস্থিত থাকতে পারেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী নিরঞ্জন সাধ্বী জ্যোতি।
আরও পড়ুনঃ কামদুনিতে প্রতিবাদে সুকান্ত, নির্যাতিতার পরিবারকে ন্যায্য বিচার পাইয়ে দেবার আশ্বাস
‘বঞ্চিত’-দের নিয়ে রাজনীতি চলছে বঙ্গে। সে রকমইটাই হয়ে থাকে। একশো দিনের কাজের টাকা পাননি বাংলার অনেক গরীব মানুষ, এই মর্মে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে কর্মসূচি শেষ করে রাজভবনে ধর্নায় বসেছেন তিনি। আজ তিন দিন হল। দাবি, রাজ্যপালের কাছে না-পাওয়া মানুষদের চিঠি পৌঁছে দেওয়া।

অথচ সে কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না রাজ্যপাল দক্ষিণবঙ্গে নেই সে কারণে। তিস্তা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সঙ্গে কথা বলতে এবং অঞ্চল পরিদর্শনে তিনি এই মূহূর্তে উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন। এদিকে, অভিষেকের বক্তব্য, রাজ্যপাল কলকাতায় না ফেরা পর্যন্ত রাজভবনের উত্তর গেটে ধরনা চলবে।

দিল্লিতে নিরঞ্জন জ্যোতির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েও দেখা করতে পারেনি তৃণমূল। সেদিনই আবার বিকেলে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। জ্যোতি তৃণমূলের সঙ্গে দেখা না করার কারণেই রাজভবনে ধর্না চলছে। অভিষেক মনে করেন, রাজ্যপাল কেন্দ্রের প্রতিনিধি। তাই দিল্লিতে মন্ত্রী যখন দেখা করেননি তাহলে রাজ্যপালের কাছেই চিঠি জমা দেব।
অভিষেককে জবাব শুভেন্দুর? লক্ষ লোক নিয়ে কলকাতায় সমাবেশের ঘোষণা, কবে?
প্রসঙ্গত, আজ কলকাতায় এসেছেন নিরঞ্জন জ্যোতি। তিনি এসে সাফ জানিয়েছেন, “পালিয়ে যায়নি। কথা না বলতে চাইলে কি কলকাতায় আসতাম? তৃণমূলের সঙ্গে যে কোন জায়গায় বসতে রাজি। দরকার হলে পঞ্চায়েত দপ্তরেও বৈঠক হতে পারে। কিন্তু তৃণমূল তো বসতে চায় না। ওরা নাটক চালিয়ে যেতে চায়।”
জ্যোতি বৈঠকটি করেছেন সল্টলেকের বিজেপি দফতরে বসে। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি সুকান্তবাবুকে বলব এই ধরনের একটি সমাবেশের পরিকল্পনা করতে এবং আমি চাইব সেখানে যেন উপস্থিত থাকেন নিরঞ্জন জ্যোতি। সঙ্গে সঙ্গেই তাতে সম্মতি দিয়ে জ্যোতি বলেন, “আমি ঝাঁসির রানীর দেশের মেয়ে। পালিয়ে যাওয়ার পাত্রী নই।” শুভেন্দু বা বিজেপি এই সমাবেশের নির্দিষ্ট তারিখ না জানালেও বলেছেন, পুজোর পরেই এই সমাবেশ হবে।









