নজরবন্দি ব্যুরোঃ শনিবার বিকেলে কামদুনি পৌঁছে গেলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। রাস্তায় বসে মৌসুমী ও টুম্পা কয়ালদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে প্রতিবাদ জানালেন তিনি। পাশাপাশি, কথা বললেন নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে। আগামী দিনে যাতে তাঁরা ন্যায্য বিচার পান সে বিষয়ে সব রকমভাবে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার।
আরও পড়ুনঃ ফের রাজ্যপালকে কালো পতাকা দেখাল তৃণমূল, দার্জিলিংয়ে বোসের কনভয় ঘিরে বিক্ষোভ
দীর্ঘ ১০ বছর পর শুক্রবার কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনের মামলায় রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আর সেই রায় কোনওভাবেই মানতে পারছে না কামদুনি। কারণ, ফাঁসির সাজাপ্রাপ্তদের শাস্তি কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেবার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন জেলের সাজাপ্রাপ্তদের দেওয়া হয়েছে বেকসুর খালাস। এই রায় শোনার পরেই কান্নায় লুটিয়ে পড়েন কামদুনিকাণ্ডের দুই প্রতিবাদী মুখ মৌসুমী কয়াল ও টুম্পা কয়াল।

টুম্পা ও মৌসুমী দু’জনেই এই রায়ের নেপথ্যে রাজ্য সরকারের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন। তাঁদের দাবি, সরকারের তরফে যোগ্য আইনজীবী দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, রায়দানকারী বিচারপতিরা জানিয়েছেন, উপযুক্ত প্রমাণের অভাবেই শাস্তি কমানো হয়েছে। প্রমাণের অভাব কেন?

সেই বিষয়েও টুম্পারা জানিয়েছেন, কামদুনিকাণ্ডের তদন্তে ছিল রাজ্য সরকারের গোয়েন্দা দফতর সিআইডি (CID)। তাঁরাই তৈরি করেছে চার্জশিট। আর সেই চার্জশিটে রয়েছে ফাঁকফোকর, এমনটাই অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতার ভাই। তাই, কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যেতে চাইছেন তাঁরা।
মৌসুমি কয়াল জানিয়েছেন, “উকিল যেভাবে রিপোর্ট পেশ করছিল, দীর্ঘদিন ধরে দেখেছি, জজসাহেব বকাবকি করতেন। বলতেন, কী হয়েছে এটা? সরকারি উকিল মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকতেন। কিছুই বলতেন না। ৬২ জন সাক্ষী ছিলেন এই মামলায়। সকলের সাক্ষ্য গ্রহণই করা হয়নি।”
কামদুনিতে প্রতিবাদে সুকান্ত, নির্যাতিতার পরিবারকে ন্যায্য বিচার পাইয়ে দেবার আশ্বাস
এদিন সুকান্ত মজুমদারও বলেন, “তদন্ত ঠিকঠাকভাবে হয়নি। রাজ্য সরকারের পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ গাফিলতি করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে ছোট ঘটনা বলেছিলেন কয়েক বছর আগে। বাংলায় বিচারব্যবস্থা নেই। আমরা নির্যাতিতার পরিবারকে সব রকমভাবে সাহায্য করতে প্রস্তুত।”




