নজরবন্দি ব্যুরোঃ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। সেখানে উল্লেখ ছিল অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং শুভেন্দু অধিকারীদের নাম। ঠিক তার ২৪ ঘন্টা পরেই সিবিআই ও ইডির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে লেখা চিঠিতে শুভেন্দুর প্রশ্ন কেন্দ্রের সংস্থা সিবিআই কি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদকে ভয় পাচ্ছে? তা না হলে সারদা মামলার দশ বছর পরেও কেন তদন্ত শুরু করছে না?


গতকাল সিবিআই ও ইডির কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দেন বিরোধী দলের নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, ২০২৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি বিরোধী রাজনীতিকদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে। দেশজুড়ে একাধিক মামলা দায়ের হচ্ছে।অনেকজন রাজনৈতিক নেতারা গ্রেফতারও হচ্ছেন। এবং ঘটনাক্রমে তাঁরা প্রত্যেকেই বিরোধী দলের। তাঁদের বক্তব্য, ভারত যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আশা করছে এ ব্যাপারে আপনি সহমত হবেন। কিন্তু বিরোধীদের ওপর কেন্দ্রীয় সংস্থার নির্লজ্জ অপব্যবহারের জেরে মনে হচ্ছে আমরা গণতন্ত্র থেকে স্বৈরতন্ত্রের দিকে ক্রমাগত এগিয়ে চলেছি।

বিরোধী দলগুলির তরফে দেওয়া চিঠিতে উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার কথা, চিঠিতে লেখা হয়েছে সারদা চিটফান্ড মামলায় হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে ২০১৪-১৫ সালে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু তিনি কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরি ইডি, সিবিআইয়ের সেই মামলা থমকে যায়। একইভাবে চিঠিতে টানা হয়েছে বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি বিধায়ক মুকুল রায়ের প্রসঙ্গও। পাশাপাশি চিঠিতে উঠে এসেছে সম্প্রতি ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়া দিল্লির মন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়ার কথাও।

সোমবার শুভেন্দু প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে সারদা মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্টের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এই মামলায় শাসকদলেরই বহু প্রভাবশালী নেতারা জড়িত, তাই ঘটনার তদন্ত করবে সিবিআই। আশা করা হয়েছিল, এই মামলার মূলে যিনি বা যাঁরা, তাঁকে বা তাঁদের পদমর্যাদায় প্রভাবিত না হয়ে সিবিআই সমস্ত কিছু প্রকাশ্যে আনবে। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সারদা মামলায় সবচেয়ে বেশি লাভ হয়েছে যাঁর, তিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করার ব্যাপারে সিবিআই উদাসীন। তবে কী সিবিআই মুখ্যমন্ত্রী পদের সমীহ করে চলেছে?


সিবিআই মুখ্যমন্ত্রী পদের সমীহ করে চলেছে? প্রশ্ন শুভেন্দুর

একইসঙ্গে কুণাল ঘোষের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করে বিরোধী দলনেতা লেখেন, প্রাক্তন সাংসদ গ্রেফতার হওয়ার পর বারবার বলেছিলেন মমতাই সারদা কেলেঙ্কারির সবচেয়ে বড় সুবিধাপ্রাপ্ত। কেন সেই কথা শোনেনি সিবিআই? এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঁকা ছবি সারদা গোষ্ঠীর তরফে কোটি টাকায় কেনা হয়েছিল। সেই কথাও চিঠিতে জানিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক। তবে কী শুভেন্দুর অভিযোগের পরেই তৎপর হবে কেন্দ্রীয় সংস্থা?







