ভোট দিয়ে দেবের বার্তা: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ চাই, কর্মসংস্থানও বড় ইস্যু

ভোট দিয়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা বললেন দেব, কর্মসংস্থান সমস্যাকেও তুলে ধরলেন তৃণমূল সাংসদ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের দিনেই শুধুই রাজনৈতিক বার্তা নয়, ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়েও মুখ খুললেন তৃণমূল সাংসদ ও অভিনেতা দেব। সাউথ সিটির একটি স্কুলে ভোট দিয়ে তিনি একদিকে যেমন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানালেন, তেমনই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থানের মতো বড় প্রশ্ন সামনে আনলেন।

ভোট দেওয়ার পর দেব বলেন, “ভোটের মাধ্যমে আমরা যেন একটি ভালো সরকার এবং ভালো ভবিষ্যৎ পাই।” তাঁর মতে, বেশি সংখ্যক ভোটদানের মধ্যেই গণতন্ত্রের শক্তি নিহিত। তিনি মনে করেন, যত বেশি মানুষ ভোট দেবেন, ততই সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হবে।

রাজনৈতিক প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন তিনি। বলেন, একজন দলীয় কর্মী হিসেবে তিনি চান তাঁর দল জিতুক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যে ভোটারদের হাতেই, সেটাও স্পষ্ট করে দেন তিনি—“কে কাকে ভোট দেবেন, সেটা বলার অধিকার আমার নেই।”

ধর্মীয় মেরুকরণ নিয়েও সতর্কবার্তা দেন দেব। তাঁর কথায়, ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ, তাই রাজনীতিতে ধর্মকে ইস্যু করা উচিত নয়। তিনি মনে করিয়ে দেন, নির্বাচন কমিশন, সেনাবাহিনী বা কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির নিরপেক্ষ থাকা অত্যন্ত জরুরি।

তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল তাঁর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মন্তব্য। দেব বলেন, “দেশে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, আর চাকরির পরিস্থিতিও সবাই দেখছেন।” তাঁর মতে, এই সমস্যার সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন—যা ২০-২৫ বছরের সময়সীমায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

তিনি জানান, সরকার গঠন হলে তিনি বিষয়টি রাজ্য সরকারকে জানাবেন এবং একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও প্রতিটি রাজ্যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট পরিকল্পনার আর্জি রাখবেন। কর্মসংস্থান প্রসঙ্গেও তিনি গুরুত্ব দেন, ইঙ্গিত দেন যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং চাকরির ঘাটতি—এই দুইয়ের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ভোটের দিনেই দেবের বক্তব্যে উঠে এল ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণের এক বড় দিক—জনসংখ্যা ও কর্মসংস্থান, যা আগামী দিনের রাজনীতিতেও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত