বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দাবি করেছেন, তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) যদি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন, তবে তৃণমূল কংগ্রেসের মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে বড় ধাক্কা খাবে। তাঁর বক্তব্য, “হুমায়ুন কবীর দল ছাড়লে মুর্শিদাবাদের অন্তত ২২টি আসনে তৃণমূলের ক্ষতি হবে। সেখানে কংগ্রেস-সিপিএম জোট বা বিজেপি আসন জিতবে।”
শুভেন্দু অধিকারী রবিবার বর্ধমান শহরে বিজেপির “পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা”-য় অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, হুমায়ুন কবীরের দল গঠনের পদক্ষেপে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।


তিনি বলেন, “মুর্শিদাবাদে তৃণমূল সংগঠিত করা সহজ কাজ ছিল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুকুল রায়, পূর্ণেন্দু বসু কিংবা ইন্দ্রনীল সেন— কেউ পারেননি। ২০০৫ সালে দায়িত্ব পাওয়ার পর আমি গোটা মুর্শিদাবাদকে তৃণমূলময় করেছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এর কৃতিত্ব নেই।”
এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা সৌম্য আইচ কটাক্ষ করে বলেন, “মনে হচ্ছে শুভেন্দুবাবুর তৃণমূলপ্রেম ফের ফিরে এসেছে। এখন তিনি তৃণমূলের ভাল-মন্দ নিয়েই বিচার করছেন!”
সৌম্য আরও যোগ করেন, “আমরা বরাবরই বলি, তৃণমূল মানেই বিজেপি আর বিজেপি মানেই তৃণমূল। পতাকা আলাদা হলেও উৎস এক— RSS। তাই তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া নিয়ে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।”


বর্ধমানের বড় নীলপুর মোড় থেকে কার্জন গেট পর্যন্ত বিশাল মিছিলের পর সভায় বক্তৃতা দেন শুভেন্দু অধিকারী। উপস্থিত ছিলেন জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ তা ও রাজ্য কমিটির সদস্য সন্দীপ নন্দী। বিজেপির দাবি, প্রশাসন প্রথমে সভার অনুমতি দেয়নি, পরে আদালতের নির্দেশে অনুমতি মেলে।
রাজ্যে বর্তমানে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন ও SIR-NRC বিতর্ক ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে। তৃণমূলের অভিযোগ, BJP মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। পাল্টা BJP-র দাবি, তৃণমূল মৃতদের নিয়ে রাজনীতি করছে।
এই প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “২১-এর নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় CAA-কে NRC বলে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিলেন। এবারও SIR-কে NRC বলে আতঙ্ক তৈরি করছেন। এর ফলে না হিন্দুর, না মুসলমানের উপকার হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূলের নেতারা BLO থেকে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত চাপ সৃষ্টি করে আতঙ্কের রাজনীতি চালাচ্ছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দুর এই মন্তব্য হুমায়ুন কবীরের দল গঠনের প্রভাব নিয়ে BJP-র কৌশল প্রকাশ করছে। মুর্শিদাবাদে মুসলিম ভোট ব্যাংক ভাগ হলে BJP আপেক্ষিকভাবে লাভবান হতে পারে।
তৃণমূল এখনও পর্যন্ত হুমায়ুন কবীরের মন্তব্যে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে দলীয় মহলে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, হুমায়ুন কবীরের নতুন দলের উপস্থিতি আগামী বিধানসভা ভোটে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।







