নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘তোর বাবাকে বল’ যেমন ঝাড় তেমন বাঁশ, শুভেন্দু অধিকারীর বাড়ি থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে কাঁথির দইসাইয়ে জনসভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের বক্তব্যের আগাগোড়াই ছিল শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ। দল ছাড়ার পর ‘ভাইপো’ এবং তৃণমূলের দক্ষিণ কলকাতার নেতৃত্বকে বারেবারে আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু। আর এবার তাঁর বাড়ির পাশেই বিরাট জনসভা করে অভিষেক বোঝান লড়াই কঠিন। আর আজ হলদিয়ার জনসভা থেকে অভিষেক কে জবাব দিলেন শুভেন্দু।
আরও পড়ুনঃ শোভন বৈশাখীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক দেবশ্রীর


গতকাল অভিষেক শুভেন্দুর দলত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেন। অভিষেক বলেছিলেন, “ওনার কেন এত গাত্রদাহ তা কি বুঝি না। অবজারভার মডেল তুলে দেওয়ার জন্য রাগ হয়েছে। আসলে উনি তো পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুরের অবজারভার ছিলেন। এ জেলায় ১৬টি বিধানসভা আসন। মুর্শিদাবাদে ২২টি, মালদহে ১২টি, উত্তর দিনাজপুরে ৯টি। উনি ভেবেছিলেন এখান থেকে ৩০-৩৫টা জিতে বিধায়কদের নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেবেন। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। কিন্তু সে গুড়ে তো বালি পড়ে গিয়েছে। তাই এত রাগ।”
উল্লেখ্য, শুভেন্দু বিজেপি যোগের পর একাধিকবার অভিযোগ তুলেছেন, এ রাজ্যের সরকার চালায় তৃণমূলের দক্ষিণ কলকাতার নেতারা। এই অভিযোগের পাশাপাশি নিজেকে গ্রামের পান্তাভাত খাওয়া ছেলে হিসেবে তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল সে প্রসঙ্গ তুলেও এক হাত নেন অভিষেক। অভিষেক বলেন, “এখানে তো অধিকারী অ্যান্ড কোম্পানি সবটা নিয়ে বসেছিল। এক বাড়িতে এতগুলো পদ। আর তোমার যখন এতই রাগ, নাও এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসেছেন। নেত্রী তো নিজে নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়াচ্ছেন। এবার গ্রামের মানুষই মুখ্যমন্ত্রীকে নির্বাচিত করবেন।”
‘তোর বাবাকে বল’, ‘অধিকারী গড়’-শব্দে তীব্র আপত্তি তুলে অভিষেক বলেন, “অধিকারী গড় আবার কী। এটা জেলার মানুষের গড়। ফেসবুকে ভিডিয়ো ছেড়ে আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে লাভ নেই। তোর বাপ কে বল শান্তিকুঞ্জের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি, হিম্মত থাকলে যা করার করে নে, আয়। চার আনার নকুল দানা, তার আবার ক্যাশমেমো।” এদিন অভিষেকের মন্তব্যের ছোট্ট জবাব দিয়ে শুভেন্দু বলেন, যেমন ঝাড় তার তেমন বাঁশ! এছারাও মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বাজেট নিয়ে চরম কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন। মমতার বাজেট আমেরিকাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে, লোকজন রাস্তাঘাটে হাসাহাসি করছে।









