নজরবন্দি ব্যুরোঃ আমি আমি হল সর্বনাশের মূল! ফের বিতর্কিত মন্তব্য তৃণমূলে কোণঠাসা শুভেন্দুর। কিছুদিন ধরেই শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বেশ সমস্যা চলছে তৃণমূলের অন্দরে। শুভেন্দু অধিকারীর বিভিন্ন সাংগঠনিক সভাকে এড়িয়ে যাওয়া ভাল চোখে দেখছেন না তৃণমূল সুপ্রিমো। এছাড়াও বাতাসে ভাসছে শুভেন্দুর দলবদলের বার্তা। যদিও তিনি নিজে কখনও এই বিষয়ে একটি শব্দও খরচ করেন নি। কিন্তু কদিন আগে নন্দীগ্রামের এক সভা থেকে তিনি জল্পনা উসকে দেন। নন্দীগ্রাম নিয়ে তিনি বলেন, অতীত ভুললে কিন্তু তার ফল কিছুতেই ভাল হতে পারে না। অতীত ভুললে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। কিন্তু কে বা কাদের উদ্দেশে এই হুঁশিয়ারি তা স্পষ্ট করেননি তিনি। আর এবার ফের একই রকম মন্তব্য করে জল্পনা বাড়ালেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ দৈনিক সংক্রমণ কে ছাপিয়ে গেল সুস্থতার সংখ্যা। করোনা স্বস্তি বাংলায়।


নিউ দিঘাতে ভগিনী নিবেদিতার ১৫৩ তম জন্মতিথি উৎযাপন হচ্ছিল, সেখানে ভগিনী নিবেদিতার একটি আবক্ষ মূর্তির আবরন উন্মোচন করেন শুভেন্দু অধিকারী। মহিলা কল্যাণ প্রতিষ্ঠান আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শুভেন্দু স্বামী বিবেকানন্দ কে উদ্ধৃত করে তাঁর একটি বানী উচ্চারণ করেন। কিন্তু সেই বানী চয়নে শুভেন্দু অধিকারী এক তীরে দুই লক্ষ্যভেদের চেষ্টা করেছেন বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।
আমি আমি হল সর্বনাশের মূল! এদিন ভগিনী নিবেদিতার মূর্তির আবরন উন্মোচন করে মন্ত্রী অনুষ্ঠানের আয়োজক সংস্থা মহিলা কল্যাণ সমিতির প্রশংসা করতে গিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের একটি বানী উদ্ধৃত করে বলেন, আমি আপনাদের সকলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তার কারন কেউ একক শক্তিতে কোন কাজ করতে পারেন না। এটা স্বামী বিবেকানন্দ বলে গিয়েছেন। আমি আমি হল সর্বনাশের মূল, আমরা আমরা যারা করে তারাই টিকে থাকে!
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা শুভেন্দু অধিকারী আসলে বিবেকানন্দের বানী ব্যাবহার করলেও লক্ষ্য মমতা বন্দোপাধ্যায়। কারন, প্রথমে তাঁকে তৃণমূল যুব সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে তাঁকে যায়গা দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র ৭ জনের কোর কমিটিতে। এমনকি তৃণমূলের সরকারি কর্মচারী সংগঠনের শীর্ষপদ থেকেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।


পূর্ব মেদিনীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর যায়গায় বিভিন্ন এলাকায় জ্বলজ্বল করছে তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের ছবি। কদিন আগেই এই ছবি কাণ্ডে রীতিমত জলঘোলা হয়েছিল। পূর্ব মেদিনীপুর তৃণমূলের জেলা সংগঠনে রদবদল করা হয়েছে কিছুদিন আগে। শুভেন্দু ঘনিষ্ঠকে সরিয়ে জেলা যুব সভাপতির পদে বসানো হয়েছে অভিষেক ঘনিষ্ঠ পার্থ সারথী মাইতি কে। আর পদে বসার পরেই তমলুক শহর জুড়ে ব্যানার লাগিয়েছিলেন পার্থ। সেই ব্যানারে কোথাও নেই শুভেন্দু, শুধু আছেন অভিষেক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে পাল্টা ব্যানার পড়ে শুভেন্দু অধিকারীর নামে। তবে তা তৃণমূল নেতা বা মন্ত্রী হিসেবে নয়। একজন সমাজসেবি হিসেবে!
এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর দলবদলের জল্পনায় কিছুদিন আগেই ঘৃতাহুতি দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। পুজোর কদিন আগে সাংবাদিকরা দিলীপ ঘোষ কে প্রশ্ন করেন শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন কিনা। উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন বিজেপি-র দরজা খোলা রয়েছে, তবে দলে যায়গা দেওয়ার আগে স্যানিটাইজ করে তবেই দলে ঢোকান হবে।







