নজরবন্দি ব্যুরোঃ গ্যাংস্টার যোগে জেলেই প্রাণনাশের আশঙ্কা, সুশীলের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত পুলিশ। তিনি দেশের হয়ে অলিম্পিকে দুবারের পদকজয়ী। কিছুদি আগে পর্যন্তও ভারতের ক্রীড়ামহলের অন্যতম পরিচিত নাম ছিল কুস্তীগির সুশীল কুমারের। সেই তিনিই এখন খুনের মামলায় অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি। দেশের চোখে ভিলেন।
আরও পড়ুনঃ ১১ দিনে সামান্য হ্রাস সংক্রমণে, রাজ্যে ফের বাড়তে চলেছে লকডাউনের মেয়াদ?
গত ৪ মে দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়ামের পার্কিং লটে সুশীল কুমার এবং তাঁর কয়েক জন সঙ্গীর সঙ্গে ঝামেলা হয় সাগর রানার। ঝামেলায় মারপিটের জেরে মৃত্যু হয় বছর তেইশের কুস্তিগির রানার বলেই অভিযোগ। ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন সুশীল। ফোন লোকেশন ট্র্যাক করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য খুঁজে পাচ্ছেন দিল্লী পুলিশ। জানা যাচ্ছে অলিম্পিকে পদকজয়ী কুস্তিগির নাকি আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করে ফেলেছিলেন। পুলিশের দাবি পালিয়ে গাঁ ঢাকা দেওয়ার সময় গ্যাংস্টাররাই নাকি তাঁকে আড়াল করছিল। আপাতত পুরো বিষয়টির তদন্ত করছে পুলিশ।
সেই তদন্তেই নাকি উঠে এসেছে সুশীল গ্যাংস্টার কালা জাঠেরির হিটলিস্টে আছেন। তাঁর প্রাণহানির আশঙ্কাও আছে। সেজন্যেই আদালতে পেশ করার সময় পুলিশের বিশেষ দল তাঁকে নিরাপত্তা দিয়েছে। এই কালা জাঠেরি আসলে মালয়েশিয়া থেকে নিজের গ্যাং চালায়। সুশীলকে নাকি জেল থেকেই ‘সরিয়ে’ দিতে চায় কুখ্যাত ওই গ্যাংস্টার। এর আগে অভিনেতা সলমন খানকেও খুনের ছক কষেছিল সে। যদিও কড়া নিরাপত্তার জন্য সেটা সম্ভব হয়নি। কুখ্যাত এই গ্যাংস্টারের দুই অনুচর লরেন্স এবং বিষ্ণোই এখন পুলিশের হেফাজতে। তাঁদেরও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে জেলে সুশীলের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত দিল্লী পুলিশ। এদিকে এই ঘটনার পর তাঁকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করেছে রেল।
গ্যাংস্টার যোগে জেলেই প্রাণনাশের আশঙ্কা, সুশীলের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত পুলিশ। কুস্তি ফেডারেশনের বার্ষিক চুক্তি থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তারকা কুস্তিগিরকে। যদিও কুস্তিগিরের আইনজীবীর দাবি, তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। সুশীল কুমারের মা ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন, তাঁর সন্তানকে নিয়ে যেন ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ না করা হয়। এছাড়া এই ঘটনায় আজ আট প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষী রেকর্ড করেছে পুলিশ।



