বিরক্ত ঘরের লোকেরা, তবু ১ আসনের আব্বাসের হাত ছাড়বেন না সূর্যকান্ত!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: বিরক্ত ঘরের লোকেরা, তবু ১ আসনের আব্বাসের হাত ছাড়বেন না সূর্যকান্ত! বিরক্ত ঘরের লোকেরা! আব্বাস কে নিয়ে জোটের শুরু থেকে তৈরি হওয়া অভিমানের গুঞ্জন মোটামুটি ভোটের ফলাফলের পর থেকে ক্ষোভ হয়ে প্রকাশ পেয়েছিল। তবে আলিমুদ্দিনের গতকালের বৈঠকে তা কার্যত বিরক্তি রূপে সামনে এসেছে। প্রায় একমাস পেরিয়ে বহু সমীক্ষা করে গতকাল CPM আলোচনায় বসেছিল নিজেদের মধ্যে। কারণ ছিল ২১এর নির্বাচনের ফলাফলে নিজেদের খুঁজে না পাওয়া। স্বাধীনতার পর এটাই প্রথম বার বাংলায়, বিধানসভায় বামেরা নেই।

আরও পড়ুনঃ এবার করোনায় মৃতদের পরিবারদের পেনশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করল কেন্দ্র।

দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসন, তার আগে এবং পরের ১০ বছর, আসন সংখ্যা কমিয়ে বাড়িয়ে ছিলেন কেউ কেউ, তবে এবার একেবারে উল্টো। ৭ শতাংশ থেকে শুরু করতে বামেরা এবার মীনাক্ষী -সৃজন-প্রতীকুর সহ বহু নতুন মুখকে সামনে এনেছিল, বামেদের তথাকথিত সাদা মাথায় ভরসা জোগাতে কালো মাথার ভিড় জমেছিল ব্রিগেডে প্রচারে। ভিত আরো শক্ত করতে জোট বেঁধেছিলো কংগ্রেস এবং আব্বাস সিদ্দিকির সেকুলার ফ্রন্টের সঙ্গে। কিন্তু ফলাফল একেবারে উল্টো, বাংলার রাজনীতিতে এই নির্বাচনে এককথায় ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেছে বামেরা। অনেকেই মনে করছেন ১৯৭২এর কঠিন সময়েও এমন সংকট তৈরি হয়নি দলে।। কিন্তু এমন ধরাশায়ীর কারণ কী? এত আঁটঘাট বেঁধেও নিট ফল জিরো কেনো? একমাস ধরে নিজেরা ভেবে চিন্তে গতকাল বৈঠক হয়েছে CPM এর রাজ্য কমিটির।

আর সেখানে নিজদের হারের কারণ খোঁজার থেকে বেশি প্রকট হয়ে ফুটে উঠেছিল অভিমান আর বিরক্তি। জোট নিয়ে, দলের নীতি নিয়ে সর্বোপরি পীরজাদা সিদ্দিকীকে নিয়ে। আব্বাস সিদ্দিকীকে দলে নেওয়ায়, জোটে সামিল করায় এর আগেও একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে সিপিএমকে, রাজ্যের শীর্ষ নেতারা নিজেদের মার্জিত উত্তর দিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমকে। কিন্তু জেলা স্তরের নেতা কর্মীরা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। কালকে সুযোগ পেয়েই সকলের প্রশ্ন ছিল, অন্তত ১ ঘন্টার বৈঠক করে তাঁদের মত নিতেন। তাও হয়নি কেনো? কালকের বৈঠকেও অনেকেই জানিয়েছেন এই হারের একটা বড় কারণ আব্বাস কে দলে নেওয়া।

‘ পীরজাদা ‘ আব্বাস সিদ্দিকীর কারণেই ধাক্কা খেয়েছে দলের ভাবমূর্তি। এতদিন বামপন্থায় বিশ্বাসীরা মেনে নিতে পারেননি জোট। মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, আর তার খেসারত দিল বামেদের ভোটব্যাঙ্ক। ৭ থেকে ৭০ হওয়ার বদলে শতাংশের হারে বামেরা নেমে এসেছে ৪.৬২ শতাংশে। কিন্তু সে বিষয়েও সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র সাফ জানিয়েছেন, ‘আমরা কাউকেই জোট থেকে বেরিয়ে যেতে বলব না। কিন্তু কেউ যদি চান তাঁরা নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’ ভরাডুবির কারণ হিসেবে যেমন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে লাগাতার মমতা বিরোধীতা, দলের নেতাদের মতে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছিল আব্বাসের সঙ্গে জোটও। কিন্তু এখনো তাতে অনড় শীর্ষ নেতৃত্ব।

বিরক্ত ঘরের লোকেরা, তবু ১ আসনের আব্বাসের হাত ছাড়বেন না সূর্যকান্ত! এদিকে দলের সমালোচনার কারণে ৩ মাসের জন্য মুখ বন্ধ করা হয়েছে তন্ময় ভট্টাচার্যর। সব মিলিয়ে দলের অনেকেই মনে করছেন, হারের কারণ জানতে বৈঠক ডেকেছিল দল ঠিকই, কিন্তু এখনো তৈরি নয় সামগ্রিক আত্মসমালোচনাতে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন