নজরবন্দি ব্যুরো: মণিপুর ‘অশান্তি’র প্রভাব গোটা দেশজুড়ে পড়েছে। জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়ল মণিপুর পুলিশ ও প্রশাসন। একগুচ্ছ মামলা চলাকালীন আদালত দেখে, তিন মাস পেরিয়ে গেলেও প্রায় ৬ হাজারের বেশি এফআইআর করা হয়েছে, কিন্তু গ্রেফতারির সংখ্যা হাতে গোনা। পুলিশের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে ওই রাজ্যের ডিজিপিকে তলব করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
আরও পড়ুন: বিরোধিতা ভুলে ‘একমঞ্চে’ মোদী-শরদ, করলেন করমর্দন, ‘পাওয়ার’ সিদ্ধান্তে অস্বস্তিতে INDIA?


এদিন মণিপুর হিংসা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, “তদন্তে যে বিলম্ব হয়েছে, তা প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে পরিষ্কার। এফআইআর দায়ের, সাক্ষীদের বক্তব্য নথিভুক্ত করা এবং গ্রেফতারের মধ্যে প্রচুর সময়ের ফারাক রয়েছে। কিভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে, তা জানতে চায় আদালত।” আগামী শুক্রবার দুপুর ২ টোয় ব্যক্তিগতভাবে মণিপুরের ডিজিপিকে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল (৩১ জুলাই) থেকে সুপ্রিম কোর্টে মণিপুর হিংসার শুনানি শুরু হয়েছে। এই ইস্যুতে একের পর এক আবেদন জমা পড়েছে। সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন করেছিলেন, এদিন তার উত্তর জমা দেন সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহতা।

সলিসেটর জেনারেল আদালতে জানান, “মোট ৬৫৩২ টি FIR দায়ের হয়েছে। এগুলির মধ্যে ১১ টি FIR মহিলাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ। মণিপুরের দুই মহিলার নগ্ন অবস্থায় প্যারেড নিয়ে যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেই বিষয় প্রশ্ন করেন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু এনিয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি তিনি। তুষার মেহতার লিখিত জবাব পড়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ‘৪ মে ঘটনার এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে ৭ জুলাই। স্পষ্টতই বিলম্ব যে হচ্ছে, বলার অপেক্ষা রাখে না। বিষয়টি বেশ গুরুতর।”



প্রসঙ্গত, মণিপুর হিংসার বিষয়ে হওয়া সমস্ত এফআইআর সিবিআইকে হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানায়, যৌন হিংসার ১১ টি মামলার তদন্ত করবে সিবিআই। পাশাপাশি হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারকদের নিয়ে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের পরিকল্পনা হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসনার মুখে মণিপুরের পুলিশ, ডিজিপিকে হাজিরার নির্দেশ








