জাতীয় বিপর্যয়ের সময় রাজনীতি? ভ্যাকসিনের দামে বৈষম্য নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ সুপ্রিম কোর্টের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ জাতীয় বিপর্যয়ের সময় রাজনীতি? কেন্দ্রকে বিঁধল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। একই ভ্যাক্সিনের ৩ রকম দাম কেন তা নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন অবিজেপি নেতা নেত্রীরা। এ বার খোদ সুপ্রিম কোর্টও এই প্রশ্ন তুলে দিল কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে। রীতিমত বিড়ম্বনার মুখে কেন্দ্র। কদিন আগেই কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেয় আগামী ১ মে থেকে ১৮ উর্ধ্ব ব্যক্তিদেরও টিকা দেওয়া যাবে, এবং এবার থেকে ভ্যাকসিন খোলা বাজারে বিক্রি করতে পারবে প্রস্তুতকারী সংস্থারা। পাশাপাশি রাজ্যসরকার সরাসরি ভ্যাকসিন কিনে জনগনকে দিতে পারবে। তারপরেই প্রকাশ্যে আসে ভ্যাকসিনের ৩ রকম দামের কথা।

আরও পড়ুনঃ অক্সিজেন কন্টেনার নিয়ে পানাগড়ে পৌঁছাল বায়ুসেনার C17 গ্লোবমাস্টার

কেন্দ্রের ঘোষণার পরেই সেরাম কর্তা আদল পুনওয়ালা একই ভ্যাকসিনের ৩ রকম দাম ঘোষনা করেন। সেরামের পক্ষ থেকে বলা হয়। কেন্দ্রীয় সরকার কে তাঁরা ভ্যাকসিন দেবে ডোজ পিছু ১৫০ টাকা। কিন্তু সেই একই ভ্যাকসিনের জন্যে রাজ্য সরকার কে দিতে হবে ৪০০ টাকা। এখানেই শেষ নয়, আদর কঠোর ভাবে জানান বেসরকারি হাসপাতাল গুলোর জন্যে ডোজ পিছু দাম ধার্য করা হয়েছে ৬০০ টাকা। এই ঘোষণার পরেই ব্যাপক ক্ষুব্ধ হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। চিঠি দিয়ে মমতা এবং সোনিয়া প্রতিবাদ জানান মোদীকে।

এদিকে সেরামের পর ভারত বায়োটেকের তৈরি দেশি করোনার টিকা ‘কোভ্যাক্সিন’ এর দাম ঘোষণা করা হয়। বলা হয়, এই টিকা রাজ্য সরকারের খরচ পড়বে ডোজ প্রতি ৬০০ টাকা।  রাজ্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলির ক্ষেত্রে এক একটি ডোজের দাম ধার্য করা হয়েছে ১২০০ টাকা! যদিও টিকা ভারতসরকার কে ১৫০ টাকাতেই দেবে বলা জানায় ভারত বায়োটেক।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, দেশে বর্তমানে জাতীয় বিপর্যয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই কঠিন সময়ে রাজনীতি দূরে সরিয়ে রেখে একে অন্যের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এই মুহূর্তে মানুষের জীবন বাঁচানোই আদালতের অগ্রাধিকার। আদালত প্রয়োজন মনে করলেই হস্তক্ষেপ করবে। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, কেন কেন্দ্র, রাজ্য এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য ভ্যাকসিনের দাম আলাদা? কেন এমন দাম নির্ধারণ করা হল? এর ভিত্তি কী? কেন্দ্রের কাছে বিচারপতি জানতে চান, আগামী ১ মে থেকে শুরু হতে চলে তৃতীয় পর্যায়ের টিকাকরণে সবাই কীভাবে ভ্যাকসিন পাবেন, দেশে কত সংখ্যক ভ্যাকসিন মজুত আছে, সরকারের পরিকল্পনাই বা কী?

এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সোনিয়া গান্ধিদের প্রবল চাপের মুখে গতকালই পিছু হটেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের তরফে সেরাম এবং ভারত বায়োটেক কে চিঠি দিয়ে দাম কমাতে অনুরোধ করা হয়েছে কোভ্যাক্সিন এবং কোভিশিল্ড টিকার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত