নজরবন্দি ব্যুরোঃ একদিকে যখন কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাকে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে দিল্লিতে প্রতিবাদ জানাচ্ছে তৃণমূল ঠিক তখন আবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করছেন, কেন্দ্র থেকে বরাদ্দ টাকা খরচ করতে ব্যর্থ রাজ্য সরকার। রবিবার সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করে বিগত ৩-৪ বছরে কত পরিমাণ টাকা বাংলাকে দিয়েছে মোদী সরকার তা তুলে ধরেছেন বালুরঘাটের সাংসদ।
আরও পড়ুনঃ দিল্লিতে অভিষেককে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছে? চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বর্ষীয়ান সাংসদের
সুকান্ত মজুমদারের দাবি, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে রাজ্যকে ২৪৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। সেখানে খরচ হয়েছে মাত্র ৪৪১ কোটি অর্থাৎ ১৮%। রাজ্য খরচ করতে ব্যর্থ হয়েছে ২০০৯ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ৫৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও খরচ হয়েছে ২৫৫২ কোটি টাকা, অর্থাৎ ৪৪%। খরচ হয়নি ৩২৪৮ কোটি। আর ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে কেন্দ্রের তরফে ৪৮৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও খরচ হয়েছে ৩৮৩৯ কোটি টাকা। বাকী ১০২১ কোটি টাকা খরচ হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি সভাপতি।

পাশাপাশি, সুকান্ত মজুমদার লিখেছেন, “পিসি-ভাইপো রচিত বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মনগড়া কাহিনী সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। উল্টে বাংলার মানুষের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র থেকে যে অর্থ পাঠানো হয় সেই টাকাই খরচ করতে পারে না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপদার্থ সরকার।”

কেন্দ্রের বরাদ্দ টাকা খরচ করতে ব্যর্থ মমতা সরকার, প্রমাণসহ অভিযোগ তুললেন সুকান্ত
তৃণমূলের দিল্লি অভিযানের পাল্টা সুকান্ত মজুমদার নিজেও রাজধানীতে গিয়েছেন। সেখান থেকে রবিবার চাঁচাছোলা ভাষায় তিনি আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন, “গ্রাম পঞ্চায়েতে সমীক্ষাতেই ধরা পরেছে। দুর্নীতি হয়েছে! আমাদের কাছে ছবিও আছে। এনআরইজিএ, পিএমএওয়াই-তে দুর্নীতি হয়েছে। ভুয়ো তথ্য পেশ করে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। একাধিক কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। রাজ্য সরকারের কাছে যে ইস্যু তোলা হয়েছিল তার উত্তর দেয়নি। কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। কেন্দ্রের রিপোর্টে ১৫টি পয়েন্ট তোলা হয়েছিল। একটারও জবাব দেওয়া হয়নি।”
সুকান্ত আরও বলেন, “তৃণমূল স্বীকার করেছে যে, চুরি হয়েছে। বলছে, চোর ধরব না। ড্রামাবাজি চলছে। কেউ অন্যায় করলে কে সাজা দেবে? তোমাদের দায়িত্ব ব্যবস্থা নেওয়ার। মোদীজি বিমান চালান না। আবেদন ঠিক করে করেননি, তাই ট্রেন পায়নি। দুর্নীতি হয়েছে তাই টাকা বন্ধ করা হয়েছে। সরকার নিজের ইচ্ছায় টাকা বন্ধ করেনি। আমরা চাইলেই তৃণমূলের মুখোশ খুলে দিতে পারি!”




