নজরবন্দি ব্যুরোঃ যারা আমাদের বেশি নিন্দা করছে, তৃণমূলের সেই সমালোচকদের গায়ের চামড়া দিয়ে পায়ের জুতো তৈরি হবে। এই দিন অপেক্ষা করছে। প্রকাশ্য সভা থেকে এই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। বর্ষীয়ান সাংসদের এহেন মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় বইতে শুরু করেছে। এবার সৌগতর মন্তব্যের কড়া নিন্দা করলেন সিপি(আই)এম নেতা সুজন চক্রবর্তী। অধ্যাপক না অপরাধী? প্রশ্ন সুজনের।
আরও পড়ুনঃ Anubrata Mondal: কেষ্টহীন বীরভূমে কীভাবে চলবে দল? বৈঠকে TMC


এদিন ট্যুইট করে সুজন চক্রবর্তী বলেন, “ অধ্যাপক না অপরাধী? এ তো ক্রিমিনাল দের ভাষা। ছিঃ।। সঙ্গদোষ তো বটেই। সাথে ক্ষমতা হারানো আর ভয়ের স্পষ্ট প্রতিফলন তৃনমূল নেতার চোখে মুখে।। আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন আর মানুষের মেজাজ বোঝার চেষ্টা করুন।। সতর্ক হোন। সমঝে যান। ধরা পড়ে গেছেন কিন্তু।।“
আরও একটি ট্যুইটে বাম নেতা বলেন, “তৃনমূলের নেতারা এত ভয় পেয়ে গেল যে শুধুই অসভ্য হম্বিতম্বি, হুমকি আর প্রলাপ বকা!! লুঠ আর তোলাবাজীর বদহজমে শুধু পেটে’ই না, পচন ধরেছে মাথায়। তার দূর্গন্ধ ক্রমশই বাড়ছে যে!!”
তৃনমূলের নেতারা
এত ভয় পেয়ে গেল
যে শুধুই অসভ্য হম্বিতম্বি,
হুমকি আর প্রলাপ বকা!!Related Newsজেলায় জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, কলকাতায়ও ভিজবে সপ্তাহান্তকেন বিরাটকে বিয়ে করেছিলেন? অবশেষে বলে ফেললেন অনুস্কালুঠ আর তোলাবাজীর বদহজমে
শুধু পেটে'ই না,
পচন ধরেছে মাথায়।
তার দূর্গন্ধ
ক্রমশই বাড়ছে যে!! pic.twitter.com/64sODi9PC7— Dr.Sujan Chakraborty (@Sujan_Speak) August 14, 2022
গতকাল কামারহাটির সভা থেকে সৌগত রায় বলেন, আমি দেখছি সিপি(আই)এম, বিজেপির পাখা গজিয়েছে। তারা বলছে, তৃণমূলের সবাই চোর। আমরা তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছি কামারহাটিতে তৃণমূলের সব চোর বলে কেউ মিছিল করলে তাঁদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেব যে পার্টি অফিসে ঢুকে যেতে হবে। সাবধান থাকবেন। এরপর তৃণমূল কর্মীরা সিপি(আই)এমের পার্টি অফিস যদি বন্ধ করে দেয়, তখন কেউ বলতে পারবে না আমরা অন্যায় করছি।

উল্লেখ্য, গরু পাচার কাণ্ডে অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতারের পর ময়দানে নেমেছে তৃণমূল। শাসক দলের একের পর এক নেতাদের তরফে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে একাধিক মন্তব্য উঠে আসে। গতকাল একটি সভা থেকে চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কুৎসা হলে ধোলাই হবে, পেটাই হবে। অভিষেকের নাম কুৎসা হলে ধোলাই, পেটাই হবে।
একই সভা মঞ্চ থেকে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সেদিন বলা উচিত ছিল বদলা হবে। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হৃদয়টা অনেক বড়। তাই তিনি সে কথা বলেছিলেন। কিন্তু এই সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস যে নোংরামি শুরু করেছে তারা সেই কথার মানে বোঝেনি।

একইসঙ্গে কল্যাণের বার্তা, এর মানে এই নয় যে বদলা নেওয়া হবে। কিন্তু যদি বিধায়ক, সাংসদ, কাউন্সিলর বা কোনও জনপ্রতিনিধির গায়ে হাত পড়ে তাহলে তৃণমূলের কর্মীরাও প্রস্তুত রয়েছেন। বিরোধীদের সেটা খেয়াল রাখা উচিত।
অধ্যাপক না অপরাধী? তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণে সুজন

একইভাবে মদন মিত্র দিলীপ ঘোষের উদ্দেশ্যে বলেন, দিলীপ ঘোষকে বলি বেশি ইট পাটকেল বলবেন না, এরপর পরিস্থিতি এমন আসবে, আপনাকে কিন্তু কোমরে বেল্ট পরিয়ে ঘোরাতে হবে। কলকাতা শহর, বাংলায় এখানে যদি তৃণমূল কর্মীদের উপর হাত পড়ে তা হলে…। কার গলায় বকলেস পরায় জানেন তো। তৈরি থাকুন।
একের পর এক তৃণমূল নেতাদের মন্তব্যেরতপ্রেক্ষিতেই এদিন ট্যুইট করেন সুজন চক্রবর্তী। গত কয়েকদিন ধরে শাসক বিরোধী শিবিরে যে তরজা চলছিল তাতে ঘৃতাহুতি দেওয়া হল।










