দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁদের সাংসদপদ কেন খারিজ করা হবে না—লোকসভার স্পিকারের সেই নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য ফের সময় চাইতে পারেন তৃণমূল থেকে দূরত্ব তৈরি করা ২০ সাংসদ। তাঁদের মধ্যে অন্যতম সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বুধবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তিনি। নোটিসের জবাব দেওয়ার সময়সীমা আরও বাড়ানোর আবেদন জানানো হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এবার ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। বৃহস্পতিবার ২০ সাংসদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে সুদীপের। সেই বৈঠকের পরই কত দিনের সময় চাওয়া হবে, তা চূড়ান্ত হতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর দলের ২০ জন সাংসদের সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয় বলে অভিযোগ। পরবর্তী সময়ে দিল্লিতে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর তাঁরা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
একইসঙ্গে ওই সাংসদেরা তৃণমূলের পরিবর্তে নিজেদের ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়ার কথা জানান।
এই অবস্থানকে কেন্দ্র করেই তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যেকের সাংসদপদ খারিজের দাবিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক পিটিশন জমা দেন।
স্পিকারের কাছে আবেদন করার পর দীর্ঘ সময় কোনও সিদ্ধান্ত না আসায় বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির আর্জি জানান।
লোকসভার স্পিকার এবং সেক্রেটারি জেনারেলের বিরুদ্ধে রিট পিটিশনও দাখিল করা হয় বলে দাবি তৃণমূলের।
গত ২৫ অগস্ট বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট ২০ সাংসদের বক্তব্য জানতে চায়।
এর পরেই লোকসভার স্পিকারের সচিবালয় থেকে ২০ জন সাংসদের কাছে নোটিস পাঠানো হয়। তাঁদের নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য প্রথমে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল।
প্রথম নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জবাব না দিয়ে সংশ্লিষ্ট সাংসদেরা আরও সময় চেয়েছিলেন বলে সূত্রের দাবি। এরপর তাঁদের তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। সেই সময়সীমার মধ্যেও জবাব জমা পড়েনি বলে জানা গিয়েছে।
এর পর গত ২২ সেপ্টেম্বর স্পিকারের দফতর থেকে ফের নির্দেশ দিয়ে ৮ অক্টোবরের মধ্যে জবাব দেওয়ার কথা জানানো হয়।
সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখেই ফের সময় চাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের দাবি, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এবার চিঠি এবং ই-মেলের মাধ্যমে আরও দু’সপ্তাহ সময় চাওয়া হতে পারে।
বৃহস্পতিবার বৈঠক, তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
২০ সাংসদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকেই স্পিকারের কাছে ঠিক কতদিনের সময় চাওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এই মুহূর্তে মূল প্রশ্ন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁরা নিজেদের অবস্থান জানাবেন, নাকি আরও সময় নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হবে। কারণ বিষয়টি ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকারের নোটিস থেকে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারির আওতায় এসেছে।
অন্যদিকে, ২০ সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে করা আবেদনের নিষ্পত্তি নিয়ে তৃণমূলের নজরও এখন স্পিকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ফলে ৮ অক্টোবরের সময়সীমা পেরিয়ে নতুন করে সময় চাওয়া হলে রাজনৈতিক ও আইনি—দুই ক্ষেত্রেই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।



