কলকাতা পুরসভার আসন্ন নির্বাচনের আগে সংরক্ষিত আসনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। নতুন সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর তৈরি হওয়া ২০৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৯টি ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫টি সাধারণ মহিলা আসন এবং চারটি তফসিলি জাতির মহিলা আসন। একই সঙ্গে ১২টি ওয়ার্ড তফসিলি জাতির প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত হয়েছে। তফসিলি উপজাতির জন্য কোনও ওয়ার্ড সংরক্ষিত হয়নি।
বুধবার জারি হওয়া নির্দেশিকার মাধ্যমে কলকাতা পুরভোটের আসন সংরক্ষণের চূড়ান্ত ছবি স্পষ্ট হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুর নির্বাচন (আসন সংরক্ষণ) বিধি, ১৯৯৪ অনুযায়ী দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক অভিষেককুমার তিওয়ারি এই সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করেছেন।
কোন কোন ওয়ার্ডে মহিলা সংরক্ষণ?
চূড়ান্ত তালিকায় সাধারণ মহিলা প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ওয়ার্ডগুলি হল ১, ৪, ৭, ১০, ১৩, ১৬, ১৯, ২২, ২৬, ২৯, ৩৩, ৩৬, ৩৯, ৪২, ৪৫, ৪৮, ৫১, ৫৫, ৫৮, ৬১, ৬৪, ৬৭, ৭০, ৭৩, ৭৭, ৮০, ৮৩, ৮৬, ৮৯, ৯২, ৯৫, ৯৮, ১০১, ১০৪, ১১০, ১১৩, ১১৬, ১১৯, ১২২, ১২৬, ১২৯, ১৩২, ১৩৫, ১৩৮, ১৪১, ১৪৫, ১৪৮, ১৫১, ১৫৫, ১৫৯, ১৬২, ১৬৫, ১৬৮, ১৭১, ১৭৪, ১৭৭, ১৮০, ১৮৩, ১৮৬, ১৮৯, ১৯৩, ১৯৬, ২০২, ২০৫ এবং ২০৮।
তফসিলি জাতির মহিলা প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট হয়েছে ২৫, ৭৫, ১৫৪ এবং ১৯৭ নম্বর ওয়ার্ড। অর্থাৎ এই চারটি আসনে শুধুমাত্র তফসিলি জাতির মহিলা প্রার্থীরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
অন্যদিকে তফসিলি জাতির সাধারণ প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত হয়েছে ৩১, ৫২, ১২৫, ১৪৪, ১৫৮, ১৯২, ২০০ এবং ২০১ নম্বর ওয়ার্ড। সব মিলিয়ে তফসিলি জাতির জন্য ১২টি আসন নির্দিষ্ট হয়েছে।
চূড়ান্ত তালিকার আগে গত সেপ্টেম্বরে খসড়া সংরক্ষণ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ আপত্তি জানিয়েছিল। বিশেষ করে মহিলা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রোটেশন বা পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি ঠিকমতো মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
চূড়ান্ত তালিকায় সেই আপত্তির কিছু প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। উত্তর কলকাতার ৮, ১১, ১৭ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড খসড়ায় মহিলা সংরক্ষণের আওতায় থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় সেগুলি সেই সংরক্ষণ থেকে বাদ পড়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন তালিকা প্রকাশের ফলে কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডে আসন সংরক্ষণের কাঠামো এখন স্পষ্ট। ২০২৬ সালের সংশোধনের ফলে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ হয়েছে।
সংরক্ষণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী বাছাইয়েও এর প্রভাব পড়বে। যে ওয়ার্ডগুলি মহিলা বা তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত হয়েছে, সেখানে সেই অনুযায়ী প্রার্থী বাছাই করতে হবে দলগুলিকে।
কলকাতা পুরভোটের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সংরক্ষণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের ফলে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে দলের অন্দরের হিসাব-নিকাশেও নতুন করে পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটের নির্দিষ্ট ভোটের দিন এখনও চূড়ান্তভাবে ঘোষণা হয়নি। রাজ্য নির্বাচন কমিশন নভেম্বরের শেষ দিকে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আগে জানানো হয়েছিল।
ফলে সংরক্ষণের তালিকা প্রকাশের পর এবার নজর থাকবে চূড়ান্ত ভোটসূচির দিকে। ২০৯ ওয়ার্ডের লড়াইয়ে কোন দল কোন আসনে কাকে প্রার্থী করে, সেটিও পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পর্ব হতে চলেছে।



