চলতি বছর মহালয়ায় তর্পণের শুভ সময় কখন? ১০ অক্টোবর পিতৃপক্ষের অবসান, জেনে নিন তিথি ও নিয়ম

১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়া। পিতৃপক্ষের শেষ দিনে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। জেনে নিন অমাবস্যা তিথি ও পঞ্জিকাভেদে তর্পণের শুভ সময়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মহালয়া ২০২৬ পালিত হবে আগামী ১০ অক্টোবর, শনিবার। এই দিনেই শেষ হচ্ছে পিতৃপক্ষ (Pitru Paksha) এবং শুরু হচ্ছে দেবীপক্ষের সূচনা। পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করার জন্য মহালয়ার দিনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে হিন্দু ধর্মীয় পরম্পরায় মানা হয়। কলকাতার সময় অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর রাতে অমাবস্যা তিথি শুরু হয়ে ১০ অক্টোবর রাত পর্যন্ত থাকবে।

শাস্ত্রীয় মতে, পূর্বপুরুষের নির্দিষ্ট মৃত্যুতিথিতে শ্রাদ্ধ ও তর্পণ করাই নিয়ম। কোনও কারণে সেই তিথিতে তা করা সম্ভব না হলে পিতৃপক্ষের শেষ দিন, অর্থাৎ অমাবস্যায় পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করা যায় বলে ধর্মীয় মত রয়েছে। মহালয়ার দিন সেই কারণেই গঙ্গার ঘাট-সহ বিভিন্ন জলাশয়ের পাশে তর্পণ করতে ভিড় করেন বহু মানুষ।

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে, ৯ অক্টোবর শুক্রবার রাত ৯টা ৩৭ মিনিটে অমাবস্যা তিথি শুরু হবে। তা চলবে ১০ অক্টোবর শনিবার রাত ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ ১০ অক্টোবর দিনের প্রায় পুরো সময়ই অমাবস্যা তিথির মধ্যে পড়ছে। [দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট: ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত দিনক্ষণ, শুভক্ষণ ও সময় সূচি]

অন্যদিকে গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুযায়ী, অমাবস্যা শুরু হচ্ছে ৯ অক্টোবর রাত ৮টা ৫৮ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে ১০ অক্টোবর রাত ৮টা ৩২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে। পঞ্জিকাভেদে সময়ের এই সামান্য পার্থক্য থাকলেও দুই মতেই ১০ অক্টোবরই মহালয়া ও পিতৃপক্ষের শেষ দিন।

তর্পণের ক্ষেত্রে শুধু দিন নয়, নির্দিষ্ট সময়কেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন পঞ্জিকা ও গণনায় সময়ের সামান্য হেরফের দেখা যাচ্ছে। কলকাতার জন্য একটি সাম্প্রতিক পঞ্জিকা-ভিত্তিক গণনায় ১০ অক্টোবর কুতুপ মুহূর্তকে তর্পণের উপযোগী সময় হিসেবে সকাল ১০টা ৫৯ মিনিট থেকে ১১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত দেখানো হয়েছে; এরপর রোহিণ মুহূর্ত রয়েছে। [মহালয়া কী? কীভাবে জড়িয়ে আছে মহাভারতের কর্ণের কাহিনি?]

অন্য একটি সাম্প্রতিক পঞ্জিকা-ভিত্তিক হিসাবে কুতুপ মুহূর্ত সকাল ১১টা ৪৪ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এবং অপরাহ্নকাল দুপুর ১টা ১৭ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট তর্পণের সময় জানতে স্থানীয় পঞ্জিকা ও পুরোহিতের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।

মহালয়ার সঙ্গে বাঙালির আবেগ জড়িয়ে থাকলেও ধর্মীয় দিক থেকে এই দিনটির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় রয়েছে। এটি পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের সূচনার সন্ধিক্ষণ। অর্থাৎ পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তর্পণের পরই দুর্গাপুজোর আবহ আনুষ্ঠানিক ভাবে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, তর্পণের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শুধু পিতৃপুরুষ নয়, দেবতা, গুরু এবং ঋষিদের উদ্দেশেও পৃথক তর্পণের বিধান রয়েছে বলে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়। তবে বিভিন্ন তর্পণের পদ্ধতি এক নয় এবং পারিবারিক আচার ও স্থানীয় রীতিতেও পার্থক্য থাকতে পারে।

যাঁদের পূর্বপুরুষের মৃত্যুতিথি জানা নেই বা নির্দিষ্ট দিনে শ্রাদ্ধ করা সম্ভব হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রেও সর্বপিতৃ অমাবস্যার গুরুত্ব রয়েছে বলে ধর্মীয় পরম্পরায় মনে করা হয়। ২০২৬ সালে ১০ অক্টোবরের মহালয়া সেই কারণে তর্পণ ও পিতৃস্মরণের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন।

কলকাতায় ১০ অক্টোবর সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে এবং সূর্যাস্ত বিকেল ৫টা ১৩ মিনিট ৩ সেকেন্ডে—গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকার হিসাবে এমনটাই উল্লেখ রয়েছে। তর্পণের ক্ষেত্রে তাই ভোর থেকে দিনের বিভিন্ন নির্দিষ্ট সময়কে ঘিরে ধর্মীয় আচার পালিত হবে।

মহালয়ার সকালে গঙ্গার ঘাটে তর্পণ করা বাঙালির দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি। তবে কোথায় এবং কীভাবে তর্পণ করবেন, তা নিয়ে পারিবারিক রীতি বা পুরোহিতের নির্দেশ থাকলে সেটিই অনুসরণ করা উচিত। বিশেষ করে পঞ্জিকাভেদে মুহূর্তের সময় কিছুটা বদলাতে পারে—তাই শুধু অনলাইন সময় দেখে আচার পালনের বদলে স্থানীয় পঞ্জিকার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন