নজরবন্দি ব্যুরো: ফুল, মিষ্টি, ফল কিংবা নারকেল—মন্দিরে দেবতার উদ্দেশে এমন নিবেদনই চেনা ছবি। কিন্তু ভারতেরই এক মন্দিরে সেই চেনা রীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একেবারে অন্যরকম প্রথা। সেখানে দেবতার সামনে সিগারেটও নিবেদন করেন ভক্তরা। গুজরাটের সুরতের ‘ভূত মামা মন্দির’-এর এই অদ্ভুত রীতি ঘিরে এখনও প্রবল কৌতূহল রয়েছে।
সুরতের আথওয়ালাইনস এলাকার আদর্শ সোসাইটিতে অবস্থিত এই মন্দিরটি স্থানীয়দের কাছে ‘ভূত মামা মন্দির’ নামে পরিচিত। এখানে পূজিত হন বাঞ্জারা ভূত মামা, যাঁকে স্থানীয় বিশ্বাসে রক্ষাকর্তা বা অভিভাবক হিসেবে মানা হয়।
মন্দিরটির বয়স নিয়েও রয়েছে কিছুটা মতভেদ। বিভিন্ন স্থানীয় দাবি ও প্রতিবেদনে এর বয়স প্রায় ১২৫ থেকে ১৫০ বছরের মধ্যে বলা হয়েছে। তবে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই জায়গাকে ঘিরে বিশেষ লোকবিশ্বাস এবং সিগারেট নিবেদনের প্রথা চলে আসছে বলে জানা যায়।
এই মন্দিরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় অবশ্যই সিগারেট নিবেদন। ভক্তদের একাংশ সিগারেটের প্যাকেট নিয়ে মন্দিরে আসেন। কেউ কেউ আবার সিগারেট জ্বালিয়ে তা দেবতার সামনে রেখে দেন। তাঁদের বিশ্বাস, এই বিশেষ নিবেদনের মাধ্যমেই ভূত মামার কাছে নিজেদের প্রার্থনা পৌঁছে দেওয়া যায়।
কেন এমন রীতি? স্থানীয় লোকবিশ্বাসের সঙ্গে এর উত্তর জড়িয়ে রয়েছে। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, ভূত মামাকে এমন এক রক্ষাকর্তা হিসেবে মানা হয়, যাঁর কাছে ব্যক্তিগত সমস্যা কিংবা মনের ইচ্ছা নিয়ে প্রার্থনা করলে আশীর্বাদ মেলে। সিগারেট নিবেদনের রীতিও সেই বিশ্বাসেরই অংশ বলে মনে করা হয়।
শুধু ব্যক্তিগত ইচ্ছা নয়, বিয়ে ও দাম্পত্যজীবনের সমস্যা নিয়েও অনেকে এখানে প্রার্থনা করতে আসেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ভক্তদের বিশ্বাস, মানত করে ভূত মামার কাছে নিজের সমস্যার কথা জানালে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার পথ খুলে যেতে পারে।
এই প্রথা অবশ্য নতুন কোনও সংযোজন নয়। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বহু দশক ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সিগারেট নিবেদনের রীতি চলে আসছে। শহর বদলেছে, জীবনযাত্রা বদলেছে, কিন্তু এই বিশেষ লোকাচার এখনও মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।
মন্দিরটির সঙ্গে বাঞ্জারা সম্প্রদায়ের পুরনো যোগসূত্র নিয়েও স্থানীয় কাহিনি রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস ও লোককথার নানা সংস্করণে এই এলাকার অতীত এবং ভূত মামাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। ফলে ইতিহাসের পাশাপাশি লোকবিশ্বাসও এই মন্দিরের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সাধারণ মন্দিরে যেখানে ধূপ, ফুল, মিষ্টি কিংবা ফল নিবেদনের ছবি পরিচিত, সেখানে সিগারেট নিবেদনের এই ব্যতিক্রমী রীতি স্বাভাবিকভাবেই সুরতের ভূত মামা মন্দিরকে আলাদা করে তুলেছে। বিশ্বাসের এই অদ্ভুত প্রকাশই মন্দিরটিকে ঘিরে কৌতূহল তৈরি করেছে—আর একশো বছরেরও বেশি সময় পরেও সেই রীতি হারিয়ে যায়নি।



