বর্ণময় সুব্রতর প্রয়াণে বর্ণহীন দীপাবলি, একনজরে ‘ত্রয়ী’র শেষ সদস্যর রাজনৈতিক জীবন।

বর্ণময় সুব্রতর প্রয়াণে বর্ণহীন দীপাবলি, একনজরে ‘ত্রয়ী’র শেষ সদস্যর রাজনৈতিক জীবন।
বর্ণময় সুব্রতর প্রয়াণে বর্ণহীন দীপাবলি, একনজরে ‘ত্রয়ী’র শেষ সদস্যর রাজনৈতিক জীবন।

অর্ক সানা: বর্ণময় সুব্রতর প্রয়াণে বর্ণহীন দীপাবলি, প্রয়াত হয়েছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন-সহ রাজ্যের চারটি দফতরের মন্ত্রী, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র সুব্রত মুখোপাধ্যায়। আলোর উৎসবে নিভল প্রদীপ, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে। গত ২৪ অক্টোবর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে এসএসকেএম হাসপাতালে যান সুব্রত বাবু। আর বাড়ি ফেরা হলনা তাঁর। প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে উডবার্নের আইসিইউয়ে শেষ লড়াই লড়ে মৃত্যুর কাছে পরাজিত হলেন রাজনীতির বর্ণময় চরিত্র।

আরও পড়ুনঃ রাজ্য রাজনীতিতে ইন্দ্রপতন, দীপাবলির আলো নিভিয়ে চলে গেলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়

ষাটের দশকে বাংলার কংগ্রেসি ঘরানার অন্যতম তরুণ মুখ ছিলেন তিনি। হয়েছিলেন ছাত্র পরিষদের সভাপতিও। ১৯৭১ সালে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন, ১৯৭২ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের মন্ত্রীসভার সদস্য হন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের বিতর্কিত শাসনকালে সাফল্যের সাথে সুব্রত সামলেছিলেন রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্ব। ১৯৮২ সালে ফের রাজ্যের বিধায়ক নির্বাচিত হন সুব্রত বাবু। ১৯৮২ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত জোড়াবাগান কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন তিনি। ১৯৯৩ তে কেন্দ্র বদল করে চৌরঙ্গীতে দাঁড়ান সুব্রত, জয়ী হন এবারও।

বর্ণময় সুব্রতর প্রয়াণে বর্ণহীন দীপাবলি, একনজরে ‘ত্রয়ী’র শেষ সদস্যর রাজনৈতিক জীবন।
বর্ণময় সুব্রতর প্রয়াণে বর্ণহীন দীপাবলি, একনজরে ‘ত্রয়ী’র শেষ সদস্যর রাজনৈতিক জীবন।

একাধিকবার দল বদল ও দল গঠন করেছেন সুব্রত। চিরকাল বাম রাজনীতির বিরুদ্ধে থাকলেও কখনই বাম নেতাদের সাথে তাঁর সম্পর্কের অবনতি হয়নি। দল ছাড়ার শুরু হয় ২০০০ সালে। সেবার কংগ্রেস ত্যাগ করেন সুব্রত। যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। ২০০০ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ছিলেন কলকাতার মেয়রের পদে। পরে মমতা ববন্দোপাধ্যায়ের সাথে দূরত্ব বাড়ায় তৃণমূল ছেড়ে দেন তিনি। ফের যোগ দেন কংগ্রেসে। তবে তাঁর আগে গড়েছিলেন নিজের দল। সেই দল জোট করে কংগ্রেসের সাথে, লড়াই করে কলকাতা পুরসভার নির্বাচনে। ঘড়ি চিহ্নে দাঁড়িয়ে জেতেন সুব্রত, তবে জেতেনি তাঁর দল। তাই সেবার মেয়র হওয়া হয়নি তাঁর।

এরপর সুব্রত বাবু পাকাপাকি ভাবে ফিরে যান কংগ্রেসে। প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি পদে বসেন তিনি। বছর পাঁচেক কংগ্রেসের সাথে থেকে আবার ২০১০ সালে যোগ দেন তৃণমূলে। তার পরের বছর মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যের ক্ষমতা দখল করে তৃণমূল। গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী হন তিনি। তারপর টানা তিনবার রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল। আর তিনবারই একাধিক দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের বালিগঞ্জ কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জিতেছিলেন সুব্রত। যথারীতি পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন-সহ রাজ্যের চারটি দফতরের দায়িত্ব তাঁর বিশ্বস্ত কাঁধে তুলে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বর্ণময় সুব্রতর প্রয়াণে বর্ণহীন দীপাবলি

বর্ণময় সুব্রতর প্রয়াণে বর্ণহীন দীপাবলি
বর্ণময় সুব্রতর প্রয়াণে বর্ণহীন দীপাবলি

সুরসিক সুব্রত মুখোপাধ্যায় রাজনৈতিক মহলে এক বর্ণময় চরিত্র হিসেবে থেকে গিয়েছেন। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নারদ স্টিং ভিভিও তে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে বাঁকুড়া লোকসভা আসনে তাঁকে প্রার্থী করেছিলেন মমতা, সেবার তিনি পরাজিত হন বিজেপির সুভাষ সরকারের কাছে। বঙ্গ রাজনীতির ত্রয়ীর দুজন আগেই চলে গিয়েছেন, আর আজ রাত ৯টা ২২ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন সুব্রত। এক কথায় বলা যায়, বর্ণময় সুব্রতর প্রয়াণে বর্ণহীন দীপাবলি। প্রিয়-সোমেন-সুব্রত জুটি এখন হয়তো আড্ডা দেবেন অজানা কোন লোকে… যেখানেই থাকুন, ভাল থাকুন। বিদায় সুব্রত মুখোপাধ্যায়।