তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের ইতি ঘটল শুক্রবার। দলের জন্মলগ্ন থেকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব সামলানো সুব্রত বক্সী অবশেষে সেই পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। কালীঘাটে জাতীয় কার্যকরী কমিটির বৈঠকে তাঁর অব্যাহতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় তিন দশক ধরে তৃণমূলের সাংগঠনিক মুখ হিসেবে পরিচিত ‘বক্সীদা’র সরে যাওয়া রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
আজকের তৃণমূল যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তার নেপথ্যে সুব্রত বক্সীর সাংগঠনিক ভূমিকা বারবার আলোচিত হয়েছে। কংগ্রেসের ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা একসময় ব্যাঙ্কের চাকরি করতেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিলে তাঁর অন্যতম ভরসার মানুষ ছিলেন সুব্রত বক্সী। স্থায়ী চাকরি ছেড়ে তিনি যোগ দেন তৃণমূলে এবং রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।


তারপর কেটে গিয়েছে ২৮ বছর। আন্দোলনের দিন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছনো, আবার রাজনৈতিক ধাক্কা—সব পর্যায়ের সাক্ষী থেকেছেন তিনি। দলের উত্থান-পতনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তাঁর উপস্থিতি ছিল অনিবার্য।
সূত্রের খবর, ২০২৩ সালেই রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন সুব্রত বক্সী। কিন্তু সেই সময় তাঁকে দায়িত্বে থেকে যাওয়ার নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে সাংগঠনিক রদবদলের আলোচনা সেখানেই থেমে যায়।
সম্প্রতি শারীরিক অসুস্থতা বাড়ার পর আবারও দায়িত্বমুক্ত হওয়ার আর্জি জানান তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকেও সক্রিয় রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই আবেদন মেনে নেয় দলীয় নেতৃত্ব।


নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। তবে সুব্রত বক্সী সম্পূর্ণভাবে সংগঠন থেকে সরে যাচ্ছেন না। জাতীয় কার্যকরী কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।
রাজনৈতিক মহলে এখনও আলোচিত হয় ২০২১ সালের সেই মুহূর্ত, যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর ভবানীপুরের পার্টি অফিসে গিয়ে সুব্রত বক্সীকে প্রণাম করেছিলেন। আবেগঘন সেই সাক্ষাতে বক্সী বলেছিলেন, “আমার যা আছে, তোকে দিয়ে দেব।” সেই সময়ও দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি, যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে অনুমতি দেননি।
অবশেষে ২৮ বছরের দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তৃণমূলের সংগঠন আজ নতুন নেতৃত্বের হাতে গেলেও, দলের ইতিহাসে ‘বক্সীদা’ নামটি থেকে যাবে এক স্থায়ী সাংগঠনিক স্তম্ভ হিসেবেই।Subrata
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



