ডিভিসি নয় দায়ী রাজ্য, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মত রাজ্যপালের

রাজ্যপালের বক্তব্য, যে যে জেলাগুলিতে বন্যার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ডিভিসিকে দায়ী করছেন সেই জেলাগুলি কোনও ভাবেই ডিভিসি অববাহিকার মধ্যে পড়ে না।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এবার রাজ্য সরকারকে ‘দোষ’ দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তাঁর দাবি, ডিভিসি থেকে জল ছাড়ার জন্য নয় বরং কংসাবতী বাঁধ থেকে জল ছাড়ার জন্যই এই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটা চিঠি লিখে বলেছেন, “ডিভিসিকে দোষারোপ না করে রাজ্যের উচিত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।”

বিগত কয়েক দিন ধরেই রাজ্যের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি। কার্যত বানভাসি হুগলি, দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং বীরভূম। বুধবার প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করতে জেলা সফরে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতিকে ‘ম্যান মেড বন্যা’ বলে অভিহিত করে ডিভিসি-র সঙ্গে সমস্ত রকম সম্পর্ক ছিন্ন করার হুঁশিয়ারিও দেন তৃণমূলনেত্রী। সঙ্গে চার পাতার দীর্ঘ চিঠি লিখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।

এই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেন, “অনিয়ন্ত্রিত এবং একতরফাভাবে জল ছাড়া কারণে বাংলায় দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগে কখনও ডিভিসি এত পরিমাণ জল ছাড়েনি। ২০০৯ সালের পর দামোদর নিম্ন অববাহিকা এবং সংলগ্ন অঞ্চল সবচেয়ে বড় বন্যার মুখোমুখি। এর ফলে ৫০ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডিভিসি-র চেয়ারম্যান কে ১৬ সেপ্টেম্বর ফোন করে অবস্থা জানানো হয়েছিল। তারপরেও ১৭ সেপ্টেম্বর ভোরে আড়াই লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়। এই পরিমাণ না ছাড়লে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনা যেত।”

যদিও রাজ্যপালের বক্তব্য, যে যে জেলাগুলিতে বন্যার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ডিভিসিকে দায়ী করছেন সেই জেলাগুলি কোনও ভাবেই ডিভিসি অববাহিকার মধ্যে পড়ে না। কংসাবতী, শিলাবতী ও তারকেশ্বর নদী এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং কংসাবতী নদীর উপর মুকুটমনি বাঁধ থেকে জল ছাড়ার কারণে রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

একইসঙ্গে, রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি লিখেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজ্যপালের বক্তব্য, ডিভিসি যে বাঁধ তৈরি করেছিল, তা বন্যা পরিস্থিতি আটকানোর জন্য। এছাড়া বাঁধ যদি জল না ছাড়ে, তাহলে বাঁধের ক্ষতি হয়। তাই ডিভিসিকে দোষারোপ না করে পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজ্য সরকারের নিজের দায়িত্ব পালন করা উচিৎ বলে মনে করেন রাজ্যপাল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত